জাকারিয়া হত্যা: ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নামে মামলা

জাকারিয়া হত্যা: ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নামে মামলা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা

সাতক্ষীরা শহরে কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন (১৯) হত্যার ঘটনায় ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি মোহিত হাসান বনিকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মো. শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন– শহরের ইটাগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে জুয়েল, মো. হাসানের ছেলে সাগর, মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মো. রনি, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে নাঈম, নজরুল সরদারের ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ, মো. মিঠুর ছেলে হুজাইফা, মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ এবং মোহিত হাসান বনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদমগাছতলায় রবিউলের চায়ের দোকানে নাহিদ হাসানসহ কয়েকজন। এ সময় দ্রুত চা দেওয়া নিয়ে দোকানি রবিউলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তবে রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর এবং মাথায় ইট দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এ সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন কলেজছাত্র জাকারিয়া। সে বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জাকারিয়ার বামপাশে বুকে ছুরিকাঘাত করে অভিযুক্ত নাহিদ হাসান। পরে গুরুতর আহত জাকারিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদ হাসানের নেতৃত্বেই সরাসরি এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
অবিলম্বে নাহিদ হাসানসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, অভিযুক্ত নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায়ও নাহিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও গুরুতর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদের পিতা জেলা যুবলীগ নেতা ও ‘চোরাকারবারি’ গিয়াস উদ্দীনকে ভোমরা সড়কের গাংনিয়া ব্রিজ এলাকায় চোরাকারবারিরা পিটিয়ে হত্যা করে। পিতার পথ ধরে অপরাধজগতে প্রবেশ করা নাহিদ।
স্থানীয়দের দাবি, নাহিদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে তার চাচা স্থানীয় পৌর বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীনের রাজনৈতিক প্রভাব।
অভিযোগ রয়েছে, নাছির উদ্দীন প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কারণে ভয়াবহ অনেক অপরাধের বিচার হয়নি নাহিদের। ফলে, একাধিক মামলা থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে, জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে নাহিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার চাচা নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় নাহিদ সেখানে ছিলেন না। আমাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
নাহিদের অতীতের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাহিদের বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নিরীহ কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করা ঠিক হবে না।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাতক্ষীরা শহরে কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন (১৯) হত্যার ঘটনায় ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি মোহিত হাসান বনিকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মো. শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন– শহরের ইটাগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে জুয়েল, মো. হাসানের ছেলে সাগর, মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মো. রনি, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে নাঈম, নজরুল সরদারের ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ, মো. মিঠুর ছেলে হুজাইফা, মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ এবং মোহিত হাসান বনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদমগাছতলায় রবিউলের চায়ের দোকানে নাহিদ হাসানসহ কয়েকজন। এ সময় দ্রুত চা দেওয়া নিয়ে দোকানি রবিউলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তবে রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর এবং মাথায় ইট দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এ সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন কলেজছাত্র জাকারিয়া। সে বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জাকারিয়ার বামপাশে বুকে ছুরিকাঘাত করে অভিযুক্ত নাহিদ হাসান। পরে গুরুতর আহত জাকারিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদ হাসানের নেতৃত্বেই সরাসরি এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
অবিলম্বে নাহিদ হাসানসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, অভিযুক্ত নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায়ও নাহিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও গুরুতর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদের পিতা জেলা যুবলীগ নেতা ও ‘চোরাকারবারি’ গিয়াস উদ্দীনকে ভোমরা সড়কের গাংনিয়া ব্রিজ এলাকায় চোরাকারবারিরা পিটিয়ে হত্যা করে। পিতার পথ ধরে অপরাধজগতে প্রবেশ করা নাহিদ।
স্থানীয়দের দাবি, নাহিদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে তার চাচা স্থানীয় পৌর বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীনের রাজনৈতিক প্রভাব।
অভিযোগ রয়েছে, নাছির উদ্দীন প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কারণে ভয়াবহ অনেক অপরাধের বিচার হয়নি নাহিদের। ফলে, একাধিক মামলা থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে, জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে নাহিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার চাচা নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় নাহিদ সেখানে ছিলেন না। আমাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
নাহিদের অতীতের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাহিদের বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নিরীহ কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করা ঠিক হবে না।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জাকারিয়া হত্যা: ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নামে মামলা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা

সাতক্ষীরা শহরে কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন (১৯) হত্যার ঘটনায় ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ নাহিদ হাসানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি মোহিত হাসান বনিকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মো. শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন– শহরের ইটাগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে জুয়েল, মো. হাসানের ছেলে সাগর, মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মো. রনি, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে নাঈম, নজরুল সরদারের ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ, মো. মিঠুর ছেলে হুজাইফা, মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ এবং মোহিত হাসান বনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদমগাছতলায় রবিউলের চায়ের দোকানে নাহিদ হাসানসহ কয়েকজন। এ সময় দ্রুত চা দেওয়া নিয়ে দোকানি রবিউলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তবে রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর এবং মাথায় ইট দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এ সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন কলেজছাত্র জাকারিয়া। সে বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জাকারিয়ার বামপাশে বুকে ছুরিকাঘাত করে অভিযুক্ত নাহিদ হাসান। পরে গুরুতর আহত জাকারিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদ হাসানের নেতৃত্বেই সরাসরি এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
অবিলম্বে নাহিদ হাসানসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, অভিযুক্ত নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায়ও নাহিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও গুরুতর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে কিশোর গ্যাঙ লিডার নাহিদের পিতা জেলা যুবলীগ নেতা ও ‘চোরাকারবারি’ গিয়াস উদ্দীনকে ভোমরা সড়কের গাংনিয়া ব্রিজ এলাকায় চোরাকারবারিরা পিটিয়ে হত্যা করে। পিতার পথ ধরে অপরাধজগতে প্রবেশ করা নাহিদ।
স্থানীয়দের দাবি, নাহিদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে তার চাচা স্থানীয় পৌর বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীনের রাজনৈতিক প্রভাব।
অভিযোগ রয়েছে, নাছির উদ্দীন প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কারণে ভয়াবহ অনেক অপরাধের বিচার হয়নি নাহিদের। ফলে, একাধিক মামলা থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে, জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে নাহিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার চাচা নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় নাহিদ সেখানে ছিলেন না। আমাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
নাহিদের অতীতের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাহিদের বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নিরীহ কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করা ঠিক হবে না।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঝগড়া থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আটক ১







