ঝগড়া থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আটক ১

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
ঝগড়া থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আটক ১
নিহত জাকারিয়া খান

সাতক্ষীরা শহরে চায়ের দোকানে ঝগড়া থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া খান হত্যা ঘটনায় মুহিদ হাসান রনি নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহীদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটককৃত রনি শহরের ইটাগাছার ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে ও আলিয়া মাদ্রাসার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে প্রাণী সম্পদ অফিস মোড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইটাগাছার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিনের ভাইপো ‘কিশোর গ্যাং’য়ের সদস্য নাহিদ ইসলাম রনিসহ ৯/১০ জন তার দোকানে সিগারেট কিনতে আসে। তবে তিনি সিগারেট দেননি। এ সময় তার ভাই লিটন হোসেন বাবুর ছেলে ও পল্লী মঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাশ করা বাপ্পি হাসান দোকানে চা বানাচ্ছিল। চায়ের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে রনিসহ তার সহযোগীদের সঙ্গে বাপ্পির কথা কাটাকাটি হয়। বাপ্পিকে তারা বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে।

এ সময় বাপ্পিকে রক্ষায় এগিয়ে আসে নিহত জাকারিয়া খান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকারিয়ার বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রনি। পরে জাকারিয়া ও বাপ্পিকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জাকারিয়া অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জাকারিয়া খান সাতক্ষীরা শহরের রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। জাকারিয়া উচ্চমাধ্যমিকের ফলপ্রত্যাশী ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খান বাদি হয়ে শনিবার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহীদুর রহমান বলেন, জাকারিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

/এফআর/