শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পাবনায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী (ফটোগ্রাফার) খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ ও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরে এসব অভিযোগে স্মারকলিপিও প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে প্রথমে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘পাবনা জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ লোক অংশ নেন।

জুলাই ঐক্য পরিষদ পাবনার সদস্য আবদুল্লাহ আল-নোমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান, জেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুর হোসেন শিমুল, পাবনা সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য সচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ কবির তন্ময়, সাংবাদিক মোবারক হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন আলোকচিত্রীর এসব অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে খালেদ হোসেন পরাগ ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত খালেদ হোসেন পরাগ তার পদমর্যাদা ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাবনার ব্যবসায়ী সমাজকে জিম্মি করে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং বিভিন্ন বেকার যুবককে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দিলালপুর এলাকার মো. আবদুল নাহিদ মিয়া মিথুন নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে পরাগ চাঁদাবাজির অর্থ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর (হিসাব নং-০৫৪১০২০০১০১৫৪) অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য ব্যবসায়ীদের বাধ্য ও চাপ প্রয়োগ করতেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নাই। পুরোটাই ভুয়া আর মিথ্যা। কোথায় কার কাছে কবে কত টাকা চাঁদাবাজি করছি, কোথায় কার জমি দখল করেছি, তারা প্রমাণ করুক। তারা আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগেরও প্রমাণ দিতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত বালিশকাণ্ডের দুর্নীতির বিষয়টি আমি সামনে তুলে আনছি। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করছে, আমি পাত্তা দেয়নি। কোনোভাবে আমাকে বাগে আনতে না পেরে, তারা আমার পেছনে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।’

প্রসঙ্গত, খালেদ হোসেন পরাগ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) পাবনা জেলার আহ্বায়ক। গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার হিসেবে নিয়োগ পান পাবনার এই ফটোসাংবাদিক।

/এফআর/