শিরোনাম

রণক্ষেত্র আদিতমারী, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর

লালমনিরহাট সংবাদদাতা
লালমনিরহাট সংবাদদাতা
রণক্ষেত্র আদিতমারী, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর
(বামে) ভাঙচুরের শিকার ডিসির গাড়ি এবং পুলিশের ওপর হামলা (ডানে)। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

লালমনিরহাটে এক শিশুকে (৭) হত্যার ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আদিতমারী উপজেলায় ফলিমারী গ্রাম। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও ইউএনওর গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এসময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, এসব ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিহত ওই শিশু উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিকাল থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় নিহত ওই শিশু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ শিশুটির চাচা (পারিবারিক সম্পর্কের) বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। তাকে আটকের জন্য বিধানের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তবে বিধানকে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উপস্থিত স্থানীয়রা বিধানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় প্রশাসনের লোকজন স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা চালায় এবং অভিযুক্ত বিধানকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে স্থানীয়রা। এতে ডিসি, এসপি এবং ইউএনওর ব্যবহৃত গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

/এফআর/