শিরোনাম

ভালোবাসা পেতে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার দিয়ে দিলো কিশোরী

জামালপুর সংবাদদাতা
ভালোবাসা পেতে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার দিয়ে দিলো কিশোরী
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ভণ্ড কবিরাজ। ছবি: সংবাদদাতা

মা-বাবার ভালোবাসা পাওয়ার আশায় টিকটকে ভণ্ড কবিরাজের খপ্পরে পড়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খুঁইয়েছে এক কিশোরী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কবিরাজ চক্রের মূল হোতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীর চর ইউনিয়নের মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলাম এবং চক্রের মূল হোতা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানা এলাকার মনির হোসেন।

পিবিআই জানায়, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের মেয়ে লুবানা স্থানীয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার মনে ধারণা জন্মায় যে, মা-বাবা তাকে কম ভালোবাসেন। এই ভাবনা থেকে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সন্ধান পায়। মা-বাবার ভালোবাসা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ভণ্ড কবিরাজ ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লুবানার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংবাদদাতা
সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংবাদদাতা

কবিরাজির ফি এবং বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন: খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, গরুর দুধ, ফল ও চন্দন কাঠ) কেনার কথা বলে গত ১ মার্চ বিকাশের মাধ্যমে লুবানার কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এতেও কাজ না হওয়ায় ১০ মার্চ তারা লুবানার কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নেয়।

সবশেষ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে লুবানার কাছে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে কবিরাজ। লুবানা বিকাশের দোকানে টাকা পাঠাতে গেলে অল্প বয়সী মেয়ের এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লুবানার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপরই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় লুবানার বাবা সাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন।

লুবানার বাবা সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমার তিন সন্তানের মধ্যে লুবানা বড়। তার কেন যেন মনে হয়েছে, আমরা তাকে কম ভালোবাসি। এই চিন্তা থেকেই সে ইন্টারনেটে কবিরাজের খোঁজ করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়।

/এসআর/