শিরোনাম

‘একটা শুট করাম, একটা শুটেই পড়ে যাবে’ বিএনপি নেতার হুমকি

গাজীপুর সংবাদদাতা
‘একটা শুট করাম, একটা শুটেই পড়ে যাবে’ বিএনপি নেতার হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

‘একটা শুট করাম, একটা শুটেই পড়ে যাবে’ – এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশে দেওয়া তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১ মে) উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদিঘাট (লালমাটিয়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কামরুজ্জামান মণ্ডল কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে কাজ চলাকালে শ্রমিকদের হুমকিমূলক বক্তব্য দেন কামরুজ্জামান মণ্ডল। এ সময় জমির মালিক আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাভার থানায় কর্মরত এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ছুটিতে এসে জমিতে কাজ করছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ সময় জমির মালিক কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাব গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামকে বলতে শোনা যায়, ‘কামরুল এভাবে বইলো না কামলারে, আমারে বলো। তুমি তারে (কামলারে) না করতেছো কেন? সে তো কাজের লোক। আমারে না করো। তুমি আমারে বলো, তারে বলতেছো কেন?’

জমির মালিক আবুল কালাম জানান, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচটি দলিলে ৮২৫ দাগের ১৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। বিক্রেতারা তাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন। তবে জমিতে কাজ শুরু করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান মণ্ডল বাধা দেন।

অভিযুক্ত কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মণ্ডল বলেন, আমি বলদীঘাট জে এম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ছিলাম। যার নামে স্কুলের নামকরণ তিনি ১৯৭২ সালে ৭০ শতাংশ জমি দান করেছেন। পরে আমার বাবাও দিয়েছেন ৭০ শতাংশ জমি। পাঁচ-সাত বছর আগে আবুল কালাম এখানে জায়গা কিনেছে। তাকে বলা হয়েছে এখানে স্কুলের জায়গা আছে। স্কুলের জায়গা এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সে কোনো কথা না শুনে জোরপূর্বক জমিতে স্থাপনার কাজ শুরু করেছে। তখন আমি লেবারদের বললাম শুট করব। এই কথাটাকে অপব্যাখ্যা করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে।

কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আতাব উদ্দিন আতা গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি আমাকে আবুল কালাম জানিয়েছে এবং ভিডিওটা দেখেছি। শুট করার বিষয় তিনি বলেন একজন শিক্ষিত ও ভদ্র ছেলে এ রকম বলার কথা না। বিগত দিনে তার এ রকম ইতিহাস পাইনি। এটা আমি কনফার্ম হইলে পরে বলতে পারব।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ৩০ এপ্রিল আবুল কালাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার কাছে আসছিল। আমি তাদের আগামী ২০ মে সব কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলেছি।

/এসআর/