শিরোনাম

গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
গাইবান্ধা সংবাদদাতা
গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা
বাড়ছে পানি

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাবে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, একই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার কোনো নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। এই ওঠানামার কারণেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার চারটি উপজেলায় অন্তত ৪৫টি স্থানে ভাঙন চলছে। দুই সপ্তাহ আগেও ভাঙনের পয়েন্ট ছিল ২৫টি। সবচেয়ে বেশি ভাঙন হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায়। ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

কামারজানির গোঘাট এলাকার বাসিন্দা মাহাবুর আলম বলেন, ‘হঠাৎ রাতে দুটি স্থানে নদীতীর রক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে ভাঙন শুরু হয়। পরে পাউবো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করেছে।’

সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের লালচামার ও কেরানির চর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন হচ্ছে।’

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবরও রাখা হচ্ছে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।’

/এসআর/