আতঙ্কে মোবাইল বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা

কুমিল্লা সংবাদদাতা
কুমিল্লা সংবাদদাতা
আতঙ্কে মোবাইল বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা
নাহিদা বেগম ও ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

কুমিল্লায় হত্যার শিকার ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা ও বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কল করে ‘হয়রানি ও অশোভন আচরণ’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অপ্রতিম ও তার পরিবারকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগম মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এর আগে অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার মা। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যে অপ্রতিমকে ‘ব্লেমিং’ বা দায়ী করে বিভিন্ন প্রচার তাকে আরও কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা অপ্রতিমের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় গেলে এসব কথা বলেন নাহিদা বেগম।

ওই সময় অপ্রতিমের মা বলেন, ‘আমার দুধের শিশু, তাকে ব্লেমিং করা আমি কোনো দিন মেনে নেব না। আমার দুধের বাচ্চা, আমার ছেলে বোঝে না। তাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে তাকে বন্ধু বানিয়ে, সবার কাছে ভিকটিম বানিয়ে দিয়ে বলছে, দেখো, ও আমাদেরই একজন সদস্য, ও আমাদের সঙ্গে খেলছে, ওর কারণে ও মরে গেছে; আমি কিন্তু সেটা মানব না।’

অপ্রতিমকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে দায়ী করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, ‘আমার দুধের বাচ্চাকে কেন ভিকটিম ব্লেমিং করা হচ্ছে?’

এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, ‘সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের ফোনে কল করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে নাহিদা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময়ে তিনি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনাও অপ্রতিম হত্যার পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেন তিনি।

অপ্রতিমের মা বলেন, ‘আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে– সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।’

অপ্রতিম হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি দুই জনকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

/জেএইচ/