ফুটপাত দখল করে ওভারব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে সড়কে পথচারীরা

ফুটপাত দখল করে ওভারব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে সড়কে পথচারীরা
রাজধানীর কাকরাইলে বীর উত্তম শামসুল আলম সড়কে ফুটপাত দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে ওভারব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নেমেছেন পথচারীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পথচারীদের রাস্তা পারাপার নিরাপদ করতে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। তবে সেই ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে গিয়ে দখল হয়ে গেছে ফুটপাতের একটি অংশ। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল এখন ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়েই তারা চলাচল করছেন। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

এটি রাজধানীর কাকরাইলে বীর উত্তম শামসুল আলম সড়কের চিত্র।

ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ির গোড়ায় গাড়ির শো-রুম। সেখানে গাড়ি ধোয়ার কাজ করছেন কর্মীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ির গোড়ায় গাড়ির শো-রুম। সেখানে গাড়ি ধোয়ার কাজ করছেন কর্মীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

সরেজমিন দেখা গেছে, কাকরাইল মোড় থেকে রমনা পার্কের দিকে সড়কের দুইপাশে পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রায় ৬ ফুট প্রস্থের ফুটপাত রয়েছে। কাকরাইল মোড় থেকে মিনিটখানেক হাঁটলেই উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ-সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি চোখে পড়ে। ব্রিজটির এক পাশে রয়েছে গাড়ির শো-রুম। প্রতিষ্ঠানের নাম জিমেক্স অটো বাংলাদেশ লিমিটেড। শো-রুমের ঠিক সামনের ফুটপাতের প্রায় ৬ ফুট জায়গাজুড়ে ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি। ওই অংশ দিয়ে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

একই চিত্র দেখা গেছে সড়কের অপর পাশেও। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানেও ফুটপাতের প্রায় ৬ ফুট জায়গা দখল করে রয়েছে সিঁড়িটি। সড়কের উভয় পাশেই ফুটপাতের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে এসব সিঁড়ি। এতে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

জিমেক্স অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের শোরুমের সামনের ফুটপাতও দখল করে বিভিন্ন মডেলের গাড়ি রাখা হয়েছে। সেখানে গাড়ি ধোয়ার কাজ করছেন কর্মীরা। এর ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ফুটওভার ব্রিজের ব্রিজের পাটাতনে ছিন্নমূল মানুষ শুয়ে রয়েছেন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ফুটওভার ব্রিজের ব্রিজের পাটাতনে ছিন্নমূল মানুষ শুয়ে রয়েছেন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ফুটওভার ব্রিজে ছিন্নমূল মানুষ

ফুটওভার ব্রিজে ওঠা-নামার জন্য দুই পাশের সিঁড়িতে ৩৯টি করে মোট ৭৮টি ধাপ রয়েছে। ব্রিজের পাটাতনে কয়েকজন ছিন্নমূল মানুষ শুয়ে রয়েছেন। পাটাতনের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলের গাছ লাগানো হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই মারা গেছে।

প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে পর্যবেক্ষণ করে ব্রিজটি দিয়ে মাত্র ১০ জন পথচারীকে পারাপার হতে দেখা গেছে।

পথচারীরা যা বললেন

পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি ফুটপাতের জায়গা দখল করে নির্মাণ করায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামতে হচ্ছে তাদের। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফুটপাতটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফুটওভার ব্রিজের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ নেই। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ফুটওভার ব্রিজের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ নেই। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

শাকিল আহমেদ নামের এক পথচারী বলেন, আমি বেশ কয়েকবছর ধরে সৌদি আরবে ছিলাম। সেখানে ফুটপাতে হাঁটার যে সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে, আমাদের দেশে এর চিহ্ন পর্যন্ত নেই। আমাদের এখানে উল্টো ফুটপাত দখল করে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে।

কমল হোসেন নামের আরেকজন পথচারী বলেন, এভাবে ফুটওভার ব্রিজটি তৈরি করা উচিত হয়নি। ফুটপাতে যদি চলাচলের জায়গা না থাকে, তাহলে সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে আমরা বাধ্য হই। আমাদের দেশে যেকোনো কিছু অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়। এই ফুটওভার ব্রিজ তার একটি প্রমাণ।

রাফিত নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোন পরিকল্পনায় এমনভাবে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে, আমি বুঝি না। ফুটপাত দিয়ে মানুষ কীভাবে চলাচল করবে, এই চিন্তা কি কর্তৃপক্ষের মাথায় ছিল না। ফুটপাতটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া উচিত। তা না হলে মানুষ যখন সড়ক দিয়ে চলাচল করবে, তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, পথচারীরা যেহেতু ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না, সেক্ষেত্রে আমরা ফুটপাত এবং ফুটওভার ব্রিজটি আগে দেখবো। এরপরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

/এফসি/