শিরোনাম

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ সুপারিশ
সেমিনারে উপস্থিত অতিথি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ দফা সুপারিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

শনিবার (২৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘বৃষ্টি নয়, সমন্বিত অব্যবস্থাপনায় ডুবছে ঢাকা’ শীর্ষক সেমিনারের সুপারিশগুলো জানানো হয়েছে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সুপারিশগুলো তুলে ধরেছেন।

সেগুলো হলো-

  • ঢাকার কঠিন এবং পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ ও নিকাশ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন পেশাদার নিয়োগ।
  • বর্তমান ভূ-প্রাকৃতিক ঢাল এবং উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে সড়কের পাশে ড্রেনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভূ-গর্ভস্থ সুয়ারেজ লাইন সম্প্রসারণ করে সম্পূর্ণ নগরীকে পয়ঃবর্জ্য নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।
  • জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ না করে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, ডিজিটাল এলিভেশন মডেল (ডিইএম), হাইড্রোলজিক্যাল ও হাইড্রোলিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে নদী, খাল, লেক, জলাভূমি, জলধারণ এলাকা ও নিষ্কাশন নালাকে একটি আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে নিতে হবে।
  • নদী-খাল-জলাধার সংরক্ষণে বৈধ-অবৈধ দখলের স্পষ্ট শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন, পুনর্বাসন নীতি, ক্ষতিপূরণ কাঠামো এবং ভবিষ্যতে পুনর্দখল স্থায়ীভাবে রোধের জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নদী-খাল-জলাধারকে নাগরিক জীবনের অংশ হিসেবে পুনস্থাপন করতে হবে।
  • যেকোন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব মোকাবেলায় ওয়াটারশেড ও ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণপূর্বক বিকল্প নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নসহ বর্যাকালে পানি নিষ্কাশনে পাম্প নির্ভরতা পরিহার করে জলাধার-খাল সমূহের সাথে নদীর সংযোগ উন্মুক্ত করা।
  • দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাসমূহকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ঐসকল সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে (আইইবি, আইএবি, বিআইপি) কারিগরি সহযোগী হিসেবে যুক্ত করে একটি প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।
  • সর্বোপরি, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন একক প্রকল্প হিসেবে গণ্য না করে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রকৌশলগত বাস্তবভিত্তিক সমাধান নিশ্চিত করা।

সেমিনারে বাপার নির্বাহী সদস্য ও বাপা নগরায়ন কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি ইকবাল হাবিব একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, বর্ষা এলেই যে ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়, তার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা আর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে পানির স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে দিতে হবে। ঢাকা ঘুরে দাঁড়াতে পারলে দেশের অন্য শহরগুলোর জন্যও একটি গণবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার পথ তৈরি হবে।

নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা প্রসঙ্গে ইকবাল হাবিব বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় বহু সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, নৌপরিবহন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা ওয়াসাসহ জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সবাই কোনো না কোনোভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করে ঢাকার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারবে না। অংশগ্রহণমূলক নগর শাসনই এর সমাধান।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। সরকারকে সু-নির্দিষ্টভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের পথ বের করতে হবে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ, খুশি কবির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রাক্তন পরিচালক স্থপতি ড. খুরশিদ জাবিন হোসেন তৌফিক। এছাড়াও ছিলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পরিকল্পনাবিদ মো. আনিছুর রহমান প্রমূখ।

/জেএইচ/