শিরোনাম

নোবিপ্রবিতে উপাচার্যের নির্দেশের পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

নোবিপ্রবি সংবাদদাতা
নোবিপ্রবি সংবাদদাতা
নোবিপ্রবিতে উপাচার্যের নির্দেশের পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
নোবিপ্রবিতে একাডেমিক ভবন-১ থেকে বিবি খাদিজা হল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-১ থেকে বিবি খাদিজা হল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের (সি গ্রেড) ইট এবং ঘাস ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে ব্যবহৃত ইটের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী সংশ্লিষ্ট ইটগুলো ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু ইট সরিয়ে নিলেও বাকি অংশের ওপর পুনরায় কাজ শুরু করে।

সকালে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি লক্ষ্য করে আপত্তি জানালে একপর্যায়ে তাদের বাধার মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপাচার্য এবং উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা দপ্তর (ডিপিডি) এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ডিপিডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন বলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন।

পরিদর্শনের সময় ঘাস ও মাটি মিশ্রিত বালু সরিয়ে ফেলা হয়। একইসঙ্গে ব্যবহৃত ইট ও বালুর গুণগত মান পরীক্ষা করতে সেগুলোর নমুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পরীক্ষাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডিপিডি দপ্তরের একজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই নিম্নমানের ইটের ওপর মসলা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করে কাজ চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ডিপিডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরমানুল কবির বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে ইটের মান নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে তা অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ডিপিডিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ইট পরিবর্তন করা হলেও শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি আরও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডিপিডি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এমআর/