তিতুমীর কলেজে সাংস্কৃতিক আয়োজনে ভাটা, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
তিতুমীর কলেজে সাংস্কৃতিক আয়োজনে ভাটা, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটোক

একসময় রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে নিয়মিতই বসত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজনের আসর। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আয়োজন যেন পেয়েছিল নতুন প্রাণ। একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছিল ক্যাম্পাস। পরপর দুটি কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি করেছিল ব্যাপক সাড়া। এর পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নিজ উদ্যোগে আয়োজন করতেন নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেই প্রাণচাঞ্চল্যে নেমেছে ভাটা। যে ক্যাম্পাস একসময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছিল জমজমাট, সেখানে এখন অনেকটাই নীরবতা। নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও হতাশা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটিয়ে সৃজনশীলতার দুয়ার খুলতে এবং মানসিক বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। অথচ তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের সেই সৃজনশীল চর্চার পরিসর এখন আর নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনের অপেক্ষায় থাকা ক্যাম্পাস যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার সেই চেনা ছন্দ।

শিক্ষার্থীরা জানান, গান, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত আয়োজন না থাকায় তাঁরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিবছর কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তেমন আয়োজন দেখা যায় না।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পুষ্পিতা বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু কলেজে নিয়মিত অনুষ্ঠান না হওয়ায় আমাদের সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ বছরে অন্তত কয়েকটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করুক।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিয়া বলেন, ‘সাত কলেজের অন্যান্য কলেজের তুলনায় আমাদের কলেজে তেমন কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না বললেই চলে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হোক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা হোক। পাশাপাশি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।’

তিতুমীর কলেজ নাট্যদলের সভাপতি অলিউল্লাহ তুহিন বলেন, ‘কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বিভিন্ন সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তা। সংগঠনগুলো সক্রিয় হলে আবার আগের মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।’

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন আহম্মদ জানান, শিক্ষকদের সম্মতি না থাকায় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

/এমআর/