জাবিতে প্রভোস্টের কক্ষে হল ছাত্রদল সভাপতির তালা

জাবিতে প্রভোস্টের কক্ষে হল ছাত্রদল সভাপতির তালা
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফিরোজ আহাম্মেদ পাপনের নেতৃত্বে ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেন বলে অভিযোগ আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
এদিকে, ঘটনার পরদিন গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে হলের বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করতে হলে যান প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী এবং সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হলের সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থী, হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি, জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাটি প্রভোস্টের কক্ষে করার সুবিধার্থে কক্ষটির তালা খুলে দিতে শিক্ষার্থীরা হল ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মেদ পাপনকে অনুরোধ করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ, তবে পাপন তালা খুলতে রাজি হননি, বরং ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ডাইনিংয়ে বসে আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের ভাষ্য, পাপনের সঙ্গে থাকা ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন সেখানে ডাকা হয়েছে, সে বিষয়েও তারা পরিষ্কারভাবে অবগত ছিলেন না। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে হলের এক কর্মচারীর মাধ্যমে প্রভোস্টের কক্ষের তালা ভাঙা হয়। এরপর প্রভোস্ট, সহকারী প্রক্টর এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ওই সভায় হলের লিফট, জেনারেটর, ডাইনিংয়ের খাবারের মানসহ মোট ১৩টি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়েও সভায় মতামত দেওয়া হয়। তবে আলোচনায় হল ছাত্রদলের সভাপতি পাপন এবং তার সঙ্গে থাকা ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
শিক্ষার্থীরা দাবি, আলোচনা চলার সময় পাপন একবার সেখানে এসে ‘তালা খুলল কে’ এবং ‘কার দায়িত্বে তালা খোলা হয়েছে’ এমন প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে আলোচনা শেষে প্রভোস্টের কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আবারও হল ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে কক্ষটিতে তালা দেওয়া হয়।
এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, হল সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাত্রদলের সভাপতি দুবার প্রভোস্টের কক্ষে তালা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দখলদারিত্বের মতো মনে হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল রিয়াজ বলেন, হল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হলের সমস্যা সমাধানের দাবিতে যদি তালা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন না কেন এ প্রশ্ন থেকেই যায়। হলের সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় হলো আলোচনা ও সমন্বয়। সেখানে আলোচনায় না গিয়ে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
এদিকে, প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, যিনি হল অফিসে তালা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্রদল জোরজবরদস্তি করে কোনো কিছু আদায় করতে চায় না। হলের এক হাজার শিক্ষার্থীর মতামতের প্রতি ছাত্রদল সবসময় শ্রদ্ধাশীল।
হাসান মাহমুদ আরও বলেন, জাবি ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আহমেদ অনিক ভাই যেখানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন, সেখানে কেউ ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে তালা দিতে পারেন না। এটি সংগঠনের দলীয় শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আশা করি, দল এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, শুনেছি, হল ছাত্রদলের সভাপতি এবং কয়েকজন জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী হল অফিসে তালা দিয়েছেন। তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতেই আমরা সহকারী প্রক্টর, সব ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সভা করতে হলে এসেছিলাম। কিন্তু অফিস তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করে। তারা এতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীরাই সর্বসম্মতিক্রমে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আলোচনায় অংশ না নিয়ে সভা শেষে সবাই বের হয়ে যাওয়ার পর হল ছাত্রদলের সভাপতি আবারও অফিসে তালা দেন।
জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় বলেন, কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হল অফিসে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেবা গ্রহণে ব্যত্যয় ঘটালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনও বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
অভিযোগের বিষয়ে হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফিরোজ আহাম্মেদ পাপন বলেন, হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই হল অফিসে তালা দিয়েছেন। আমরা আলোচনার জন্য অফিসের বাইরে বসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী সেটি না মেনে তালা ভেঙে অফিসের ভেতরে সভা করেন। এ কারণে আমরা সভা বয়কট করে সেখান থেকে চলে আসি। সভা শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আবার তালা ঝুলিয়ে দেন।
‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বলতে কারা এমন প্রশ্ন করা হলে পাপন চারজনের বেশি কারও নাম বলতে পারেননি তিনি।
জাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলী বলেন, হল সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের সাথে কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই সেটা সমাধান করতে হবে। আমি বিস্তারিত জানি না, খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফিরোজ আহাম্মেদ পাপনের নেতৃত্বে ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেন বলে অভিযোগ আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
এদিকে, ঘটনার পরদিন গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে হলের বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করতে হলে যান প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী এবং সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হলের সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থী, হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি, জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাটি প্রভোস্টের কক্ষে করার সুবিধার্থে কক্ষটির তালা খুলে দিতে শিক্ষার্থীরা হল ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মেদ পাপনকে অনুরোধ করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ, তবে পাপন তালা খুলতে রাজি হননি, বরং ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ডাইনিংয়ে বসে আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের ভাষ্য, পাপনের সঙ্গে থাকা ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন সেখানে ডাকা হয়েছে, সে বিষয়েও তারা পরিষ্কারভাবে অবগত ছিলেন না। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে হলের এক কর্মচারীর মাধ্যমে প্রভোস্টের কক্ষের তালা ভাঙা হয়। এরপর প্রভোস্ট, সহকারী প্রক্টর এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ওই সভায় হলের লিফট, জেনারেটর, ডাইনিংয়ের খাবারের মানসহ মোট ১৩টি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়েও সভায় মতামত দেওয়া হয়। তবে আলোচনায় হল ছাত্রদলের সভাপতি পাপন এবং তার সঙ্গে থাকা ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
শিক্ষার্থীরা দাবি, আলোচনা চলার সময় পাপন একবার সেখানে এসে ‘তালা খুলল কে’ এবং ‘কার দায়িত্বে তালা খোলা হয়েছে’ এমন প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে আলোচনা শেষে প্রভোস্টের কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আবারও হল ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে কক্ষটিতে তালা দেওয়া হয়।
এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, হল সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাত্রদলের সভাপতি দুবার প্রভোস্টের কক্ষে তালা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দখলদারিত্বের মতো মনে হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল রিয়াজ বলেন, হল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হলের সমস্যা সমাধানের দাবিতে যদি তালা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন না কেন এ প্রশ্ন থেকেই যায়। হলের সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় হলো আলোচনা ও সমন্বয়। সেখানে আলোচনায় না গিয়ে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
এদিকে, প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, যিনি হল অফিসে তালা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্রদল জোরজবরদস্তি করে কোনো কিছু আদায় করতে চায় না। হলের এক হাজার শিক্ষার্থীর মতামতের প্রতি ছাত্রদল সবসময় শ্রদ্ধাশীল।
হাসান মাহমুদ আরও বলেন, জাবি ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আহমেদ অনিক ভাই যেখানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন, সেখানে কেউ ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে তালা দিতে পারেন না। এটি সংগঠনের দলীয় শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আশা করি, দল এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, শুনেছি, হল ছাত্রদলের সভাপতি এবং কয়েকজন জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী হল অফিসে তালা দিয়েছেন। তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতেই আমরা সহকারী প্রক্টর, সব ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সভা করতে হলে এসেছিলাম। কিন্তু অফিস তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করে। তারা এতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীরাই সর্বসম্মতিক্রমে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আলোচনায় অংশ না নিয়ে সভা শেষে সবাই বের হয়ে যাওয়ার পর হল ছাত্রদলের সভাপতি আবারও অফিসে তালা দেন।
জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় বলেন, কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হল অফিসে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেবা গ্রহণে ব্যত্যয় ঘটালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনও বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
অভিযোগের বিষয়ে হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফিরোজ আহাম্মেদ পাপন বলেন, হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই হল অফিসে তালা দিয়েছেন। আমরা আলোচনার জন্য অফিসের বাইরে বসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী সেটি না মেনে তালা ভেঙে অফিসের ভেতরে সভা করেন। এ কারণে আমরা সভা বয়কট করে সেখান থেকে চলে আসি। সভা শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আবার তালা ঝুলিয়ে দেন।
‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বলতে কারা এমন প্রশ্ন করা হলে পাপন চারজনের বেশি কারও নাম বলতে পারেননি তিনি।
জাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলী বলেন, হল সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের সাথে কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই সেটা সমাধান করতে হবে। আমি বিস্তারিত জানি না, খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

জাবিতে প্রভোস্টের কক্ষে হল ছাত্রদল সভাপতির তালা
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফিরোজ আহাম্মেদ পাপনের নেতৃত্বে ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেন বলে অভিযোগ আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
এদিকে, ঘটনার পরদিন গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে হলের বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করতে হলে যান প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী এবং সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হলের সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থী, হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি, জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাটি প্রভোস্টের কক্ষে করার সুবিধার্থে কক্ষটির তালা খুলে দিতে শিক্ষার্থীরা হল ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মেদ পাপনকে অনুরোধ করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ, তবে পাপন তালা খুলতে রাজি হননি, বরং ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ডাইনিংয়ে বসে আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের ভাষ্য, পাপনের সঙ্গে থাকা ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন সেখানে ডাকা হয়েছে, সে বিষয়েও তারা পরিষ্কারভাবে অবগত ছিলেন না। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে হলের এক কর্মচারীর মাধ্যমে প্রভোস্টের কক্ষের তালা ভাঙা হয়। এরপর প্রভোস্ট, সহকারী প্রক্টর এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ওই সভায় হলের লিফট, জেনারেটর, ডাইনিংয়ের খাবারের মানসহ মোট ১৩টি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়েও সভায় মতামত দেওয়া হয়। তবে আলোচনায় হল ছাত্রদলের সভাপতি পাপন এবং তার সঙ্গে থাকা ৫৪ ও ৫৫ ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
শিক্ষার্থীরা দাবি, আলোচনা চলার সময় পাপন একবার সেখানে এসে ‘তালা খুলল কে’ এবং ‘কার দায়িত্বে তালা খোলা হয়েছে’ এমন প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে আলোচনা শেষে প্রভোস্টের কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আবারও হল ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে কক্ষটিতে তালা দেওয়া হয়।
এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, হল সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাত্রদলের সভাপতি দুবার প্রভোস্টের কক্ষে তালা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দখলদারিত্বের মতো মনে হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল রিয়াজ বলেন, হল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হলের সমস্যা সমাধানের দাবিতে যদি তালা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন না কেন এ প্রশ্ন থেকেই যায়। হলের সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় হলো আলোচনা ও সমন্বয়। সেখানে আলোচনায় না গিয়ে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
এদিকে, প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, যিনি হল অফিসে তালা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্রদল জোরজবরদস্তি করে কোনো কিছু আদায় করতে চায় না। হলের এক হাজার শিক্ষার্থীর মতামতের প্রতি ছাত্রদল সবসময় শ্রদ্ধাশীল।
হাসান মাহমুদ আরও বলেন, জাবি ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম আহমেদ অনিক ভাই যেখানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন, সেখানে কেউ ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে তালা দিতে পারেন না। এটি সংগঠনের দলীয় শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আশা করি, দল এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, শুনেছি, হল ছাত্রদলের সভাপতি এবং কয়েকজন জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী হল অফিসে তালা দিয়েছেন। তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতেই আমরা সহকারী প্রক্টর, সব ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সভা করতে হলে এসেছিলাম। কিন্তু অফিস তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করে। তারা এতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীরাই সর্বসম্মতিক্রমে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আলোচনায় অংশ না নিয়ে সভা শেষে সবাই বের হয়ে যাওয়ার পর হল ছাত্রদলের সভাপতি আবারও অফিসে তালা দেন।
জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয় বলেন, কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হল অফিসে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেবা গ্রহণে ব্যত্যয় ঘটালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনও বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
অভিযোগের বিষয়ে হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফিরোজ আহাম্মেদ পাপন বলেন, হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই হল অফিসে তালা দিয়েছেন। আমরা আলোচনার জন্য অফিসের বাইরে বসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী সেটি না মেনে তালা ভেঙে অফিসের ভেতরে সভা করেন। এ কারণে আমরা সভা বয়কট করে সেখান থেকে চলে আসি। সভা শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আবার তালা ঝুলিয়ে দেন।
‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বলতে কারা এমন প্রশ্ন করা হলে পাপন চারজনের বেশি কারও নাম বলতে পারেননি তিনি।
জাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলী বলেন, হল সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের সাথে কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই সেটা সমাধান করতে হবে। আমি বিস্তারিত জানি না, খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

নাহরিন ইসলামকে জাবির সিন্ডিকেট সদস্য করার সুপারিশে স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ
জাবির সাবেক শিক্ষার্থী শামীম মোল্লা হত্যা: দুই বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত





