শিরোনাম

আম্মার ও শিবিরের নেতাদের মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাবি সংবাদদাতা
রাবি সংবাদদাতা
আম্মার ও শিবিরের নেতাদের মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
গতকাল সোমবার রাবিতে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’– সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন– রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাবির সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অভিযুক্ত মহসিনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসান। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে প্রক্টরের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

পরবর্তীতে একই বিষয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে আবার বৈঠক হয়। এতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। এ সময় তার মুঠোফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে যান সবাই।

কিছু সময় পর আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় তাদের সঙ্গে রাকসু ও রাবি শাখা শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, একপর্যায়ে রাকসুর জিএস আম্মার ও শিবিরের নেতাকর্মীরা আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলকে বেধড়ক মারধর করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও আহত হন। শুধু তাই নয়, এসব আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এসব ঘটনার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও মারধরের ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তীতে সোমবার রাতে মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মতিহার থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, আগে দায়ের হওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

/এফআর/