শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীর ‘রহস্যময়’ মৃত্যু, তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীর ‘রহস্যময়’ মৃত্যু, তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন
ইরফানের মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বুয়েটে মানববন্ধন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বুয়েট শহীদ মিনারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ইরফানের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

নিহত ইরফান বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশুনা শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া কর্পোরেশনে ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে ইরফান সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।

ইরফানের পরিবারের দাবি, গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে নিজ বাসা থেকে ইরফানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্ট্যানফোর্ড মেডিকেল সেন্টারের আইসিইউতে প্রায় নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই মৃত্যুবরণ করে ইরফান।

এদিকে, প্রাথমিকভাবে ইরফানের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে দেখা হলেও তার পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকাল নয়টার দিকে ইরফান একটি অনলাইন প্রেজেন্টেশন করেন। এরপর সকাল ১০টা ২ মিনিটে তার মোবাইল ফোন থেকে কর্মস্থলে বার্তা পাঠিয়ে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ছুটি চাওয়া হয়। এর প্রায় ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তার বাসা থেকে ৯১১-এ ফোন করা হয়। ফোনে আত্মহত্যার ঘটনা জানানো হয়েছিল। ওই সময় ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা বাসায় ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ওইদিন কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরফানের মস্তিষ্কে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল, যার ফলে গুরুতর ক্ষতি হয়। তবে মৃত্যুর পর ইরফানের মরদেহ প্রথমে করোনারের কার্যালয়ে নেওয়া হলেও সেখানে শুধু বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটোপসি করা হয়নি।

বর্তমানে মরদেহ হিমাগারে রয়েছে জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, মৃত্যু প্রকৃত কারণ জানতে এবং শারীরিক ও ডিজিটাল আলামত নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার আগেই পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অটোপসি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

এ সময় মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো–

১. আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত ইরফানের পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ ফরেনসিক অটোপসি করা,

২. মরদেহের হেফাজত তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা এবং

৩. ডিজিটাল ফরেনসিকসহ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা।

/এফআর/