শিরোনাম

‘আমি জগন্নাথের শের’ বলে শিক্ষার্থীকে ‘পেটালেন’ ছাত্রদল নেতা

জবি প্রতিনিধি
জবি প্রতিনিধি
‘আমি জগন্নাথের শের’ বলে শিক্ষার্থীকে ‘পেটালেন’ ছাত্রদল নেতা
অভিযুক্ত শের আলী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শের আলীর বিরুদ্ধে। ‎‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব-এমন হুমকি দিয়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসনান আল সাবিতকে (সাবায়েত) মারধর করেন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ দাবি করেন। তিনি মঙ্গলবার শের আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে তার হবু স্ত্রী ও ছোট ভাইকেও হেনস্তার কথা উল্লেখ করেছেন।

অভিযুক্ত শের আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে সাবিত উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি তার হবু স্ত্রী, ছোট ভাই ও তার এক বন্ধুকে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে আমার হবু স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হলে তিনি সেখান থেকে চলে যেতে চান। তখন ছোট ভাই ও বন্ধু তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন আইএমএলের শিক্ষার্থী শের আলীসহ কয়েকজন। কোনো কিছু না জিজ্ঞেস করেই তারা ছোট ভাই ও তার বন্ধুকে মারধর শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হবু স্ত্রী এগিয়ে এসে তাদের সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানালেও হামলা থামেনি। বরং শের আলী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‎শোরগোল শুনে সাবিত ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা এনে শের আলী তাকে আঘাত করেন। এ সময় শের আলী বলেন, ‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব।’

হামলার ঘটনায় ১৮তম ব্যাচের শাওন, ২০তম ব্যাচের রাব্বিসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। এ সময় তার হবু স্ত্রীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তাকেও পেরেকযুক্ত তক্তা দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

প্রক্টরের কাছে দেওয়া অভিযোগে সাবিত বলেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রক্টর মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে শের আলী বলেন, ‘রাত আনুমানিক ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে সেখানে বহিরাগত ছেলে এবং একটা মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। গেটে অবস্থানরত কিছু বড় ভাইসহ এগিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে এবং এত রাতে ক্যাম্পাসে খোলামেলা জায়গায় এরকম করছে কেন জিজ্ঞেস করি। বহিরাগত নিশ্চিত হলে আমরা তাদের ধমক দেই। কিন্তু ঘটনা চলাকালীন সময়ে সাবায়েত ভবনের নিচ থেকে এসে পরিচয় দেয় আমার বাগদত্তা আর ও আমার ছোট ভাই। আমার ছোট ভাইরে মারতে আসছিস কেন? এই বলে আমারে ধাক্কা দেয়।

সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশাসনের কাছে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, অভিযোগে যে মারধর ও হেনস্তার কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বরং ঘটনাস্থলে সাবায়েতই আমাকে মারধর করেছে।

সাফায়েত এবং ওই মেয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলেও অভিযোগ করেন শের আলী। ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। প্রশাসনের তদন্তে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি জেনেছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সেটি আমলে নিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ডেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। এ ঘটনায় উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও শোনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত শের আলীকে তলব করা হয়েছে। তার বক্তব্য শোনার পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

প্রয়োজনে হলে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

/জেএইচ/