শিরোনাম

জিন্নাহ কলেজ যেভাবে তিতুমীর কলেজ হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জিন্নাহ কলেজ যেভাবে তিতুমীর কলেজ হলো
সরকারি তিতুমীর কলেজ (ইনসেটে বামে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ডানে সৈয়দ মীর নিসার আলী বা তিতুমীর)। ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে সবুজে ঘেরা সরকারি তিতুমীর কলেজ। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল ইতিহাস। আজ যে প্রতিষ্ঠানটি ‘তিতুমীর কলেজ’ নামে পরিচিত, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘জিন্নাহ কলেজ’ নামে। সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক পালাবদল ও স্বাধীনতার সংগ্রামের পর বদলে যায় সেই নামও।

১৯৬৮ সালে ‘জিন্নাহ কলেজ’ নামে সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান সাবেক জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র আন্দোলন নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করেন এবং এর নামকরণ করা হয় ‘জিন্নাহ কলেজ’।  

প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর, ১৯৭০ সালে কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পাঠদানও শুরু হয়। পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিক কোর্স (১৯৯৯ সালের ৩০ জুন) বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান রেডিও-টেলিভিশনে এক ভাষণে জাতীয় পরিষদ স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিক্রিয়া জিন্নাহ কলেজ শাখার ছাত্র সংসদের প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে টিপু মুনশি ও শাহাবুদ্দিনসহ তৎকালীন কতিপয় ছাত্রনেতা জিন্নাহ কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান খোকন জিন্নাহ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ প্রস্তাব করেন।

২ মার্চ ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জড়ো হলে সেখানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রবের মধ্যস্থতায় জিন্নাহ্ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ হিসেবে চূড়ান্ত হয়। ঐ রাতেই ‘তিতুমীর কলেজ’ নামকরণের সাইনবোর্ড লেখা হয় এবং দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয়। ‘তিতুমীর’ নামকরণের ব্যাপারে এলাকার কিছু যুবকও সহযোগিতা করেন।

২০১৭ সালে কলেজটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাখালী রেললাইন ও আশপাশের সড়ক অবরোধ করে।

বর্তমানে কলেজটি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ এর একটি ক্যাম্পাস নামে পরিচিত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনটি অনুষদে (কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) মোট ২২টি বিভাগে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

জিন্নাহ কলেজ থেকে তিতুমীর কলেজ নামের এই পরিবর্তন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা নয়- এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা, অসহযোগ আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পূর্বমুহূর্তের উত্তাল সময়। পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজও সেই ইতিহাস বহন করে চলেছে মহাখালীর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

একসময় যে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় ছিল ‘জিন্নাহ কলেজ’, সময়ের স্রোতে সেটিই আজ হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার ঠিকানা ‘সরকারি তিতুমীর কলেজ’।

/জেএইচ/