রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে যা বললেন জাবির সাবেক ছাত্রদল নেত্রী

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে যা বললেন জাবির সাবেক ছাত্রদল নেত্রী
শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যে ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে, তা সরকারের জন্যও সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরির পেছনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন অনন্যা ফারিয়া।

ডেইলি স্টারের রাবি প্রতিনিধি মৃদুলের ওপর হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, মৃদুল প্রশ্ন করেছিলেন, একজন সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা হয়েছে কেন। এর জবাবে তাকে গলা চেপে দরজার সঙ্গে লটকানো হয় এবং পরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসায় আরেকজন সাংবাদিকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টের শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নূর আহসান মৃদুলের বাবাকে তার অন্যতম স্নেহশীল শুভাকাঙ্ক্ষী উল্লেখ করে অনন্যা ফারিয়া লেখেন, মৃদুল যখন কলেজে পড়তেন, তখন থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় তার বাবার সঙ্গে কথা হলে মৃদুলের কথা শুনেছেন। গতকাল রাত আড়াইটার সময়ও তার বাবার কাছ থেকে মৃদুলের কথা শুনেছেন তিনি।

অনন্যা ফারিয়া লেখেন, আংকেলের গলার স্বর কাল রাতে কাঁপছিল, কিন্তু তিনি ওকে নিয়ে এখনো একই রকম গর্বিত। আর আমি কথা বলেছি মাথা নিচু করে। সত্যি বলতে, আমি লজ্জিত। আতঙ্কিতও।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ন্যারেটিভ নিয়ে অনন্যা ফারিয়া বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা এবং তা থেকে যে ন্যারেটিভ বিল্ড হচ্ছে, তা সরকারের জন্য অশনিসংকেত। আমরা তো এই দিন দেখতে চাইনি।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একদিকে দলের ভেতরের অনিয়ম বা ভুল নিয়ে কথা বললে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে এমন সহিংসতার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে।

একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতার বস্তাভর্তি অস্ত্র ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দলের ভাবমূর্তি, জনআস্থা ও রাজনৈতিক ন্যারেটিভে যে ক্ষতি তৈরি হয়, পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টে সাবেক এমপি মিষ্টি আপার প্রসঙ্গ টেনে অনন্যা ফারিয়া লেখেন, সাবেক এমপি মিষ্টি আপা একজন ত্যাগী কর্মী হলেও বুঝতে পারেননি রাড্ডা ভাঙচুরের ইমপ্যাক্ট কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে; ছাত্রদলও কর্মকাণ্ডের পরিণতি সম্পর্কে দূরদর্শিতা দেখাতে পারছে না।

বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের জন্য বিষয়টি শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। সময়মতো ভুলগুলো চিহ্নিত করা না হলে এর মাশুল দলকেই দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অনন্যা ফারিয়া। প্রক্টরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন অনন্যা ফারিয়া। তিনি বলেন, সাংবাদিক না হলেও তো এভাবে কাউকে মারার গ্রাউন্ড নেই। এত নৃশংস এবং বেপরোয়া হওয়ার দুঃসাহস কোনো ‘ছাত্র’ দেখায় না।

নিজেকে একজন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে উল্লেখ করে অনন্যা ফারিয়া বলেন, শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিই যথেষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে, কোথায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি এবং নেতৃত্ব কীভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধ করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা প্রয়োজন।

/এমআর/