
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক


৮৯ মিনিটে বক্সের কাছ থেকে ফ্রি-কিক পেলো ফ্রান্স। তখন দল ২-০ তে পিছিয়ে। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন এমবাপ্পে এখনি নয়তো আর না। এমবাপ্পে বলটি উড়িয়ে মারলেন বারের উপর দিয়ে। সেই সঙ্গে ফ্রান্সের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নটাও শেষ হয়ে যায়। এরপর ফ্রান্স আরও আক্রমণ করে গোল শোধের জন্য। তবে স্পেনের ডিফেন্সের সামনে সেসব আক্রমণই আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলো স্প্যানিশরা।
ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২০ মিনিটে ফ্রান্সের বক্সের ভেতর ইয়ামাল ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পায় স্পেন। লুকাস দিনিয়ে বুঝতে পারেননি, তার ঠিক পেছনেই ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ইয়ামালের পায়ে আঘাত করেন। স্পটকিক থেকে গোল করেন ওইয়ারসাবাল।
৩০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পেদ্রো পোরোর গোলে। ৬৪ মিনিটে করা ইয়ামালের গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট এবং যোগ করা সময়ে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে ফ্রান্স। ৮২ মিনিটে ভুল করে বক্সের বাইরে চলে আসেন বল ক্লিয়ার করতে। ওই সময় দুয়ের কিক ফের পেছনে সরে এসে বক্সের মধ্যে ব্লক করেন স্পেন কিপার। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকে ঠেকান তিনি। ৮৯ মিনিটে এমবাপের শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে ফ্রান্সের এই তারকার একটি শট নিজের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে ক্লিয়ার করেন কুকুরেয়া।
এই ম্যাচে স্পেন ছিল গতিময় ও আগ্রাসী। শুরু থেকে ফ্রান্সের ওপর চাপ তৈরি করেছে তারা। জমাট রক্ষণ আর আগ্রাসী আক্রমণ মিলে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছে স্পেন। যদিও পরিসংখ্যান দেখলে সেটি মনে নাও হতে পারে। দুই দলই ১০টি করে শট নেয় গোলের জন্য। ফ্রান্সের ৩টি আর স্পেনের ২টি শট ছিল লক্ষ্যে।
এদিন এমবাপ্পে ৩টি শট নেন গোলের জন্য। সেগুলো রুখে দেন স্পেনের গোলকিপার। ইয়ামাল একবাল বল জালে পাঠালেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এছাড়া গোলমুখে আর কোনো শট নিতে পারেননি ইয়ামাল।
ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে জয়ী দল। বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাতে হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ।
৭২ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন মাইকেল ওলিসে ও লুকাস দিনিয়ে। আর এ দুজনের পরিবর্তনে মাঠে নেমেছেন রায়ান শেরকি ও থিও হার্নান্দেজ। তাতে ফ্রান্সের পাঁচ পরিবর্তন শেষ হয়। স্পেনও ৭৪ থেকে ৮৪ মিনিটের মধ্যে পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেছে। ওইয়ারসাবালের বদলে ফেরান তোরেস। ওলমো আর রুইজের বদলে মেরিনো ও পেদ্রি মাঠে নামেন। ৮৪ মিনিটে পেদ্রো পোরোর বদলে লরেন্তে মাঠে নামেন।
৬৮ মিনিটে বক্সের ভেতর ডুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। তবে রেফারি অফ-সাইডের পতাকা তুললে বাতিল হয় ইয়ামালের গোল।

৫৮ মিনিটে গোল করেছেন পেদ্রো পোরো। তাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ তে এগিয়ে গেলো স্পেন। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পোরো। মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।
ফ্রান্স এরই মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখা মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওর বদলে মাঠে নেমেছেন রোমার মিডফিল্ডার মানু কোনে। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম ৫৯ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে মাঠে নামিয়েছে দেজিরে দুয়েকে।

স্পেন-ফ্রান্স ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথম ১৫ মিনিটে দুই দলই ছিল সমান সমান। একটি করে শট নেয় দুই দল। তবে ম্যাচের ২০ মিনিটে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পটকিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল গোল করেন। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ তে এগিয়ে আছে স্প্যানিশরা।
ফ্রান্সের বক্সের ভেতর ইয়ামাল ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পায় স্পেন। লুকাস দিনিয়ে বুঝতে পারেননি, তার ঠিক পেছনেই ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ইয়ামালের পায়ে আঘাত করেন।
মিকেল ওইয়ারসাবাল ২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে ১৪ গোল করলেন। এর মধ্য দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে এত গোল এর আগে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার করতে পারেননি। আগের রেকর্ডটি ছিল দাভিদ ভিয়ার দখলে। ২০০৮–০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল।
পিছিয়ে পড়া স্পেন শিবিরে ধাক্কা হয়ে আসে সালিবার ইনজুরি। ৩০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় আসলেন ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া।
৪৫ মিনিটে বল দখলে এগিয়ে স্পেন। ৫৬ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে তারা। এছাড়া গোলের জন্য ৫টি শট নেয় স্পেন। ফ্রান্স ২টি শট নিলেও লক্ষ্যে ছিল না তা।

২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর ইয়ামাল ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পায় স্পেন। ২২ মিনিটে স্পটকিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন ওইয়ারসাবাল।
লুকাস দিনিয়ে বুঝতে পারেননি, তার ঠিক পেছনেই ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ইয়ামালের পায়ে আঘাত করেন।

ম্যাচের ১৫ মিনিট শেষ হয়েছে। দুই দলই একটি শট নিয়েছে গোলের উদ্দেশ্যে। স্পেন বক্সের একটু বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পেয়েছিল স্পেন। তবে ইয়ামালের শট ফ্রান্সের দেওয়ালে ব্লক হয়। বল দখলে দুই দলই প্রায় সমান সমান।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ১০ দেখায় স্পেন হেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচ। বিপরীতে এই সময়ে তারা জিতেছে ৭টি, ড্র করেছে ১টি। সর্বশেষ দুই দেখাতেই জয় স্পেনের। ইউরো ২০২৪ এর সেমিফাইনালে ২-১ এবং ২০২৫ সালের জুনে নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে।
স্পেন একাদশ: উনাই সিমন (গোলকিপার), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
ফ্রান্স একাদশ: মাইক মাইনিয়ঁ, জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োত উপামেকানো, লুকাস দিনিয়ে, আদ্রিয়াঁ রাবিও, অরিলিয়াঁ চুয়ামেনি, ব্র্যাডলি বারকোলা, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে।