শিরোনাম

রিসোর্ট কাণ্ড: ঝর্ণার সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কাহিনী বললেন মামুনুল হক

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
রিসোর্ট কাণ্ড: ঝর্ণার সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কাহিনী বললেন মামুনুল হক
মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় আলোচনায় আসা জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ২০২৫ সালের মার্চে বিচ্ছেদের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান মামুনুল হক।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী, সাংবাদিক ও অন্যরা সেখানে গিয়ে তাদের হেনস্তা করেন।

মামুনুল হক লিখেছেন, রিসোর্টের রিসেপশন থেকে সেদিন জানানো হয় যে, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। কক্ষের দরজা খোলার পর অনেকেই জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করে।

তিনি দাবি করেন, তাকে এবং তার স্ত্রীকে নানান উপায়ে হেনস্তা করা হয়। পরিস্থিতি থেকে স্ত্রীকে রক্ষা করতে তাকে ওয়াশরুমে রাখেন। পরে নারী পুলিশ সদস্য এসে ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকেও লাইভ সম্প্রচার চালান।

মামুনুল হক আরও লেখেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি এবং জান্নাত আরা উভয়েই নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে জানান এবং সেটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিতও হয়। তার দাবি, প্রথমে পুলিশ তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনটি ফেরত দেন এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হন। তবে পরে ডিজিএফআই কর্মকর্তারা এসে তাদের থানায় নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আরও দাবি করেন, রিসোর্টের বাইরে তখন হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। তিনি তাদের শান্ত করেন এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক আইডির লাইভ সুবিধা প্রযুক্তিগতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ঝর্ণার সঙ্গে যেভাবে বিয়ে

বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

তার দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এক পর্যায়ে তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি আগে থেকেই জানিয়ে দেন যে ইসলাম অনুযায়ী একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এরপর জান্নাত আরা সম্মতি দিলে শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর জান্নাত আরাকে একটি কুরআন শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দেন এবং পরে তিনি সেলাই ও নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কাজে যুক্ত হন বলেও উল্লেখ করেন মাওলানা মামুনুল হক।

রিসোর্টে অন্য নাম ব্যবহার

পোস্টে মাওলানা মামুনুল হক জানান, তার পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম ছিল। অন্যদিকে জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে তার সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলামের নাম ছিল। এ কারণে তারা আলোচনার ভিত্তিতে প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করেছিলেন।

প্রথম স্ত্রীকে ফোনে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়ার বিষয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী আগে থেকেই জান্নাত আরাকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিসেবে চিনতেন। তাই বিষয়টি শান্তভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি সেই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।

জান্নাত আরা ঝর্ণার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তবে ২০২১ সালের ঘটনার পর বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মার্চে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং কারাবন্দী অবস্থাতেও জান্নাত আরার ভরণপোষণসহ তার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন।

বিয়ে গোপন রাখার কারণ হিসেবে মামুনুল হক বলেন, উপমহাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় একাধিক বিয়ে জটিল বিষয়। এ কারণে তিনি প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি করতে চাননি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টিও জটিলতা তৈরি করেছিল।

কাবিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামে কাবিন বাধ্যতামূলক নয় বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, প্রথম বিয়েতেও কাবিন হয়নি। তবে তার একাধিক বিয়ের বিষয়টি ঘনিষ্ঠজনদের জানা ছিল।

/এফসি/