আতঙ্ক কাটিয়ে দুর্গাপূজায় উৎসবের আমেজ

আতঙ্ক কাটিয়ে দুর্গাপূজায় উৎসবের আমেজ
ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আতঙ্ক ও নিরাপত্তার উদ্বেগ পেছনে ফেলে মণ্ডপে মণ্ডপে ফিরেছে উৎসবের আমেজ। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ আর নির্বিঘ্নে উদযাপনে এবার দুর্গাপূজায় দেখা গেছে সম্প্রীতি ও স্বস্তির চিত্র। গত কয়েক বছরের তুলনায় উদ্বেগ কম থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আয়োজকরাও।

আয়োজকরা বলছেন, প্রশাসনের তৎপরতা, স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসে ভক্তদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে একাধিক জেলা ও রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করায় এবারের পূজা উদযাপনে বিশেষ মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দির, রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দির এবং চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে গিয়ে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর আগে তিনি রাজধানীর মহাখালী ও বনানী এলাকার পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ক্ষেত্রে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উৎসব উদযাপনে রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততা ও সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তাকে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর শাখারীবাজারে পূজা উদযাপন করা শতাব্দী সাহা বলেন, এবার পূজায় এসে সত্যিই অনেক ভালো কেটেছে। পরিবার নিয়ে ঘুরেছি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি। আগের চেয়ে অনেক স্বস্তি লেগেছে। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করছে, এটাই তো আমরা চাই। পূজাটা যেন প্রতি বছর এভাবেই আনন্দে কাটাতে পারি।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও এবার ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের চিত্র দেখা গেছে। আয়োজকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এবার তার প্রভাব একেবারেই কম। ফলে ভক্তরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মণ্ডপে এসেছেন, আড্ডা দিয়েছেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।

গতবারের চেয়ে এবারের পূজা উদযাপন সুন্দর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকেশ্বরী মন্দির কমিটির পূজা বিষয়ক সম্পাদক দিলিপ ঘোষ। তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখতাম মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ আমাদের পূজায় আসতো। তবে গত বেশ কয়েকবছর দেখেছি মন্দিরে আসতে ভয় পায়। এবারে এমন কিছুই হয়নি। সব ধর্মের মানুষ আগের মতই পূজা দেখতে এসেছে। এমনকি ভারতের সাংবাদিকরাও এবার বলেছে বাংলাদেশের পূজা সুন্দর হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার পূজা উদযাপনে অস্থিতিশীলতা, আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কম ছিল। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে পূজা উদযাপন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে মহালয়ার অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়। এতে ভক্তদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। ভোরে দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে এত বিপুলসংখ্যক ভক্তের উপস্থিতি দেখিনি। ভোরে ছিনতাই ও পকেটমারের আশঙ্কায় আগে অনেকেই অনুষ্ঠানে আসতে ভয় পেতেন। এবার প্রশাসনের নিরাপত্তার আশ্বাস ও গভীর রাত থেকে টহলের কারণে ভক্তরা নির্বিঘ্নে মণ্ডপে আসতে পেরেছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতারাও নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

/এফসি/