বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে জড়ালে ইসলামের দৃষ্টিতে কার কী শাস্তি?

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে জড়ালে ইসলামের দৃষ্টিতে কার কী শাস্তি?
প্রতীকী ছবি

ইসলামী শরীয়তে যিনা ও ব্যভিচারকে মারাত্মক গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত। তাই এর শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা যিনা ও ব্যভিচারকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ বলে অভিহিত করেছেন। সুরা বনী-ইসরাঈলের ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।

সুরা মুমতাহিনার ১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না।’

ইসলামে শুধু অবৈধ শারীরিক সম্পর্ককেই যিনা নয়, বরং যেসব কাজ যিনার প্ররোচনা দেয় সেগুলোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটাকেও যিনা বলে গণ্য।

সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে আছে-

‘চোখের ব্যভিচার হল দেখা। কানের ব্যভিচার শোনা। জিহ্বার ব্যভিচার বলা। হাতের ব্যভিচার ধরা। পায়ের ব্যভিচার হাঁটা। মন কামনা করে আর লজ্জাস্থান তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৫৭)

বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি যিনা বা ব্যভিচারে জড়ালে কার কী শাস্তি?

ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে সেটা প্রমাণ করতে হবে। ইসলামে যিনা বা ব্যভিচার প্রমাণ করার বিষয়ে অত্যন্ত কড়াকড়ি করা হয়েছে। যাতে নিরাপরাধ কেউ শাস্তি না পায়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হ’তে চারজন সাক্ষী উপস্থিত কর’ (নিসা: আয়াত ১৫।

কেউ যদি অপবাদ দেয়, তবে তার বিরুদ্ধেও রয়েছে কঠোর শাস্তি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়। অথচ চারজন (প্রত্যক্ষদর্শী) সাক্ষী হাযির করতে পারে না। তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর। আর তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। বস্তুত এরাই হলো পাপাচারী।’ (সূরা নূর: আয়াত ৪)।

বিবাহিত ও অবিবাহিত দুজন পারস্পরিক সম্মতিতে যিনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে এবং শরিয়তসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলে, বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রজম (পাথর ছুড়ে মারা) এবং অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে।

এক্ষেত্রে একজনের বৈবাহিক অবস্থার কারণে অন্যজনের নির্ধারিত শাস্তি পরিবর্তিত হবে না। বরং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব অবস্থা অনুযায়ী বিধান প্রযোজ্য হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত: ২)

তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, যিনা বা ব্যভিচারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত হদ কার্যকর করার অধিকার একমাত্র ইসলামী সরকার ও বিচার বিভাগের। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষ নিজের উদ্যোগে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন না।

/জেএইচ/