দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ৬৮০ পরিচ্ছন্নকর্মী পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ৬৮০ পরিচ্ছন্নকর্মী পরিবার
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার পেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিবার। একইসঙ্গে দুই সম্প্রদায়ের পূজা উদযাপন কমিটি পেয়েছে বিশেষ আর্থিক অনুদান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর দয়াগঞ্জে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব উপহার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সোমবার সকালে ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েই আমরা দ্রুত দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে উপস্থিত হয়েছি।

তিনি বলেন, তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তারা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাদের অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে সামাজিকভাবে কিংবা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জাতিগত ও সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করে না। সরকার সব নাগরিকের সমান অধিকারের আদর্শে বিশ্বাসী।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্য ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ডিএসসিসির প্রস্তাবিত ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি স্থানে দুটি এবং অন্য স্থানে ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমান আবাসনের জরাজীর্ণ অবস্থা দূর করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি কর্মকালীন দুর্ঘটনায় কোনো কর্মী নিহত হলে তার পরিবারকে এককালীন চার লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং তাদের জন্য একটি মন্দির নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

/জেএইচ/