ইসলামে যাদের বিয়ে করা হারাম

ইসলামে যাদের বিয়ে করা হারাম
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ইসলামি শরিয়তে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি ইবাদাত। সেইসঙ্গে মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলিত ও পবিত্র রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সামর্থ্যবান যুবকদের দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। কারণ বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তবে এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বংশের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শরিয়তে সুনির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ করা চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম।
১৪ শ্রেণির নারীকে চিরতরে বিবাহ নিষিদ্ধ
সুরা নিসায় মহান আল্লাহ তায়ালা বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) ও দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৪ শ্রেণির নারীর তালিকা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন স্থাপন চিরতরে নিষিদ্ধ।
সুরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمۡ أُمَّهَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُمۡ وَعَمَّٰتُكُمۡ وَخَٰلَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُ ٱلۡأَخِ وَبَنَاتُ ٱلۡأُخۡتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِيٓ أَرۡضَعۡنَكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَرَبَٰٓئِبُكُمُ ٱلَّٰتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّٰتِي دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمۡ تَكُونُواْ دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ وَحَلَٰٓئِلُ أَبۡنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنۡ أَصۡلَٰبِكُمۡ وَأَن تَجۡمَعُواْ بَيۡنَ ٱلۡأُخۡتَيۡنِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا
উচ্চারণ: হুররিমাত ‘আলাইকুম উম্মাহা-তুকুম ওয়া বানা-তুকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম ওয়া ‘আম্মা-তুকুম ওয়া খা-লা-তুকুম ওয়া বানা-তুল আখি ওয়া বানা-তুল উখতি ওয়া উম্মাহা-তুকুমুল্লাতীআরদা‘নাকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম মিনাররাদা-‘আতি ওয়াউম্মাহা-তুনিছাইকুম ওয়া রাবাইবুকুমুল্লা-তী ফী হুজূরিকুম মিন নিছাইকুমুল্লা-তী দাখালতুম বিহিন্না ফাইল্লাম তাকূনূদাখালতুম বিহিন্না ফালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ওয়া হালাইলু আবনাইকুমুল্লাযীনা মিন আসলা-বিকুম ওয়া আন তাজমা‘ঊ বাইনাল উখতাইনি ইল্লামা-কাদ ছালাফা ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা-।
অর্থ: ‘তোমাদের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) করা হয়েছে তোমাদের মাতাগণ, কন্যাগণ, ভগিনীগণ, ফুফুগণ, ভ্রাতুষ্পুত্রীগণ, ভাগিনেয়ীগণ, দুগ্ধ-মাতাগণ, দুগ্ধ-ভগিনীগণ, শাশুড়িগণ ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে, তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যাগণ, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের (কন্যাদের মাতার) সাথে সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের (বিবাহে) কোন দোষ নেই। আর তোমাদের জন্য তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রীকে (হারাম করা হয়েছে। হারাম করা হয়েছে) দুই ভগিনীকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা গত হয়ে গেছে, তা (ধর্তব্য নয়)। নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
আয়াত অনুযায়ী বংশগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ নারীদের মধ্যে রয়েছে- মা, দাদী ও নানী (ঊর্ধ্বতন সব স্তর); মেয়ে, পৌত্রী ও দৌহিত্রী (নিম্নতন সব স্তর); সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় সব বোন; বাবা ও দাদার ফুফু; মা ও নানীর খালা; ভাইয়ের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজী এবং বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগিনী।
দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ- শৈশবে স্তন্যপান করানো দুধ মা এবং একই দুধ মায়ের সন্তান অর্থাৎ দুধ বোন (তার মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।
বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ- সৎ মা অর্থাৎ বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীসহ); শাশুড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর মা ও তাঁর ঊর্ধ্বতন বংশের নারী; সৎ মেয়ে অর্থাৎ সহবাসকৃত স্ত্রীর পূর্ব ঔরসজাত কন্যা; এবং পুত্রবধূ অর্থাৎ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী। এ ছাড়া কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তাঁর বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি বা ভাগিনিকে একসঙ্গে বিবাহ করাও হারাম।
পরিস্থিতিগত কারণে আরও যেসব বিবাহ নিষিদ্ধ
পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত ১৪ শ্রেণির বাইরেও ফিকহশাস্ত্রের আলোকে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহ হারাম বা অবৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- একসঙ্গে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখা। এমন দুই নিকটাত্মীয় নারীকে একত্রে বিবাহ করা যাদের একজন পুরুষ হলে অন্যজনকে বিবাহ বৈধ হতো না (যেমন ফুফু ও ভাতিজি)। ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীকে বিবাহ করা। মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ব্যতীত অন্য ধর্মের নারীকে বিবাহ করা। তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালা ছাড়া পুনর্বিবাহ করা। অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা এবং যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার হয়েছে তার মা, নানি, মেয়ে বা নাতনিকে বিবাহ করা।

ইসলামি শরিয়তে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি ইবাদাত। সেইসঙ্গে মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলিত ও পবিত্র রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সামর্থ্যবান যুবকদের দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। কারণ বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তবে এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বংশের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শরিয়তে সুনির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ করা চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম।
১৪ শ্রেণির নারীকে চিরতরে বিবাহ নিষিদ্ধ
সুরা নিসায় মহান আল্লাহ তায়ালা বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) ও দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৪ শ্রেণির নারীর তালিকা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন স্থাপন চিরতরে নিষিদ্ধ।
সুরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمۡ أُمَّهَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُمۡ وَعَمَّٰتُكُمۡ وَخَٰلَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُ ٱلۡأَخِ وَبَنَاتُ ٱلۡأُخۡتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِيٓ أَرۡضَعۡنَكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَرَبَٰٓئِبُكُمُ ٱلَّٰتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّٰتِي دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمۡ تَكُونُواْ دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ وَحَلَٰٓئِلُ أَبۡنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنۡ أَصۡلَٰبِكُمۡ وَأَن تَجۡمَعُواْ بَيۡنَ ٱلۡأُخۡتَيۡنِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا
উচ্চারণ: হুররিমাত ‘আলাইকুম উম্মাহা-তুকুম ওয়া বানা-তুকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম ওয়া ‘আম্মা-তুকুম ওয়া খা-লা-তুকুম ওয়া বানা-তুল আখি ওয়া বানা-তুল উখতি ওয়া উম্মাহা-তুকুমুল্লাতীআরদা‘নাকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম মিনাররাদা-‘আতি ওয়াউম্মাহা-তুনিছাইকুম ওয়া রাবাইবুকুমুল্লা-তী ফী হুজূরিকুম মিন নিছাইকুমুল্লা-তী দাখালতুম বিহিন্না ফাইল্লাম তাকূনূদাখালতুম বিহিন্না ফালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ওয়া হালাইলু আবনাইকুমুল্লাযীনা মিন আসলা-বিকুম ওয়া আন তাজমা‘ঊ বাইনাল উখতাইনি ইল্লামা-কাদ ছালাফা ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা-।
অর্থ: ‘তোমাদের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) করা হয়েছে তোমাদের মাতাগণ, কন্যাগণ, ভগিনীগণ, ফুফুগণ, ভ্রাতুষ্পুত্রীগণ, ভাগিনেয়ীগণ, দুগ্ধ-মাতাগণ, দুগ্ধ-ভগিনীগণ, শাশুড়িগণ ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে, তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যাগণ, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের (কন্যাদের মাতার) সাথে সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের (বিবাহে) কোন দোষ নেই। আর তোমাদের জন্য তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রীকে (হারাম করা হয়েছে। হারাম করা হয়েছে) দুই ভগিনীকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা গত হয়ে গেছে, তা (ধর্তব্য নয়)। নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
আয়াত অনুযায়ী বংশগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ নারীদের মধ্যে রয়েছে- মা, দাদী ও নানী (ঊর্ধ্বতন সব স্তর); মেয়ে, পৌত্রী ও দৌহিত্রী (নিম্নতন সব স্তর); সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় সব বোন; বাবা ও দাদার ফুফু; মা ও নানীর খালা; ভাইয়ের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজী এবং বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগিনী।
দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ- শৈশবে স্তন্যপান করানো দুধ মা এবং একই দুধ মায়ের সন্তান অর্থাৎ দুধ বোন (তার মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।
বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ- সৎ মা অর্থাৎ বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীসহ); শাশুড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর মা ও তাঁর ঊর্ধ্বতন বংশের নারী; সৎ মেয়ে অর্থাৎ সহবাসকৃত স্ত্রীর পূর্ব ঔরসজাত কন্যা; এবং পুত্রবধূ অর্থাৎ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী। এ ছাড়া কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তাঁর বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি বা ভাগিনিকে একসঙ্গে বিবাহ করাও হারাম।
পরিস্থিতিগত কারণে আরও যেসব বিবাহ নিষিদ্ধ
পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত ১৪ শ্রেণির বাইরেও ফিকহশাস্ত্রের আলোকে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহ হারাম বা অবৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- একসঙ্গে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখা। এমন দুই নিকটাত্মীয় নারীকে একত্রে বিবাহ করা যাদের একজন পুরুষ হলে অন্যজনকে বিবাহ বৈধ হতো না (যেমন ফুফু ও ভাতিজি)। ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীকে বিবাহ করা। মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ব্যতীত অন্য ধর্মের নারীকে বিবাহ করা। তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালা ছাড়া পুনর্বিবাহ করা। অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা এবং যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার হয়েছে তার মা, নানি, মেয়ে বা নাতনিকে বিবাহ করা।

ইসলামে যাদের বিয়ে করা হারাম
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ইসলামি শরিয়তে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি ইবাদাত। সেইসঙ্গে মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলিত ও পবিত্র রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সামর্থ্যবান যুবকদের দ্রুত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। কারণ বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তবে এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে বংশের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শরিয়তে সুনির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ করা চিরতরে বা সাময়িকভাবে হারাম।
১৪ শ্রেণির নারীকে চিরতরে বিবাহ নিষিদ্ধ
সুরা নিসায় মহান আল্লাহ তায়ালা বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) ও দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ১৪ শ্রেণির নারীর তালিকা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন স্থাপন চিরতরে নিষিদ্ধ।
সুরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمۡ أُمَّهَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُمۡ وَعَمَّٰتُكُمۡ وَخَٰلَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُ ٱلۡأَخِ وَبَنَاتُ ٱلۡأُخۡتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِيٓ أَرۡضَعۡنَكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَرَبَٰٓئِبُكُمُ ٱلَّٰتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّٰتِي دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمۡ تَكُونُواْ دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ وَحَلَٰٓئِلُ أَبۡنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنۡ أَصۡلَٰبِكُمۡ وَأَن تَجۡمَعُواْ بَيۡنَ ٱلۡأُخۡتَيۡنِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا
উচ্চারণ: হুররিমাত ‘আলাইকুম উম্মাহা-তুকুম ওয়া বানা-তুকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম ওয়া ‘আম্মা-তুকুম ওয়া খা-লা-তুকুম ওয়া বানা-তুল আখি ওয়া বানা-তুল উখতি ওয়া উম্মাহা-তুকুমুল্লাতীআরদা‘নাকুম ওয়া আখাওয়া-তুকুম মিনাররাদা-‘আতি ওয়াউম্মাহা-তুনিছাইকুম ওয়া রাবাইবুকুমুল্লা-তী ফী হুজূরিকুম মিন নিছাইকুমুল্লা-তী দাখালতুম বিহিন্না ফাইল্লাম তাকূনূদাখালতুম বিহিন্না ফালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম ওয়া হালাইলু আবনাইকুমুল্লাযীনা মিন আসলা-বিকুম ওয়া আন তাজমা‘ঊ বাইনাল উখতাইনি ইল্লামা-কাদ ছালাফা ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা-।
অর্থ: ‘তোমাদের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) করা হয়েছে তোমাদের মাতাগণ, কন্যাগণ, ভগিনীগণ, ফুফুগণ, ভ্রাতুষ্পুত্রীগণ, ভাগিনেয়ীগণ, দুগ্ধ-মাতাগণ, দুগ্ধ-ভগিনীগণ, শাশুড়িগণ ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে, তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যাগণ, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের (কন্যাদের মাতার) সাথে সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের (বিবাহে) কোন দোষ নেই। আর তোমাদের জন্য তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রীকে (হারাম করা হয়েছে। হারাম করা হয়েছে) দুই ভগিনীকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা গত হয়ে গেছে, তা (ধর্তব্য নয়)। নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
আয়াত অনুযায়ী বংশগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ নারীদের মধ্যে রয়েছে- মা, দাদী ও নানী (ঊর্ধ্বতন সব স্তর); মেয়ে, পৌত্রী ও দৌহিত্রী (নিম্নতন সব স্তর); সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় সব বোন; বাবা ও দাদার ফুফু; মা ও নানীর খালা; ভাইয়ের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজী এবং বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগিনী।
দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ- শৈশবে স্তন্যপান করানো দুধ মা এবং একই দুধ মায়ের সন্তান অর্থাৎ দুধ বোন (তার মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।
বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ- সৎ মা অর্থাৎ বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীসহ); শাশুড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর মা ও তাঁর ঊর্ধ্বতন বংশের নারী; সৎ মেয়ে অর্থাৎ সহবাসকৃত স্ত্রীর পূর্ব ঔরসজাত কন্যা; এবং পুত্রবধূ অর্থাৎ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী। এ ছাড়া কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তাঁর বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি বা ভাগিনিকে একসঙ্গে বিবাহ করাও হারাম।
পরিস্থিতিগত কারণে আরও যেসব বিবাহ নিষিদ্ধ
পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত ১৪ শ্রেণির বাইরেও ফিকহশাস্ত্রের আলোকে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহ হারাম বা অবৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- একসঙ্গে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখা। এমন দুই নিকটাত্মীয় নারীকে একত্রে বিবাহ করা যাদের একজন পুরুষ হলে অন্যজনকে বিবাহ বৈধ হতো না (যেমন ফুফু ও ভাতিজি)। ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীকে বিবাহ করা। মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ব্যতীত অন্য ধর্মের নারীকে বিবাহ করা। তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালা ছাড়া পুনর্বিবাহ করা। অন্যের বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা এবং যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার হয়েছে তার মা, নানি, মেয়ে বা নাতনিকে বিবাহ করা।

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ওয়াকফ আইন প্রণয়নের দাবি
নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের ৩ উপকার







