শিরোনাম

খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: আলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: আলাল

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় কখনো ভাটা পড়েনি। জীবদ্দশায় যেমন জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি তার মৃত্যুর পর সেই ভালোবাসা আরও গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।’

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনন্য সমন্বয়। তার নেতৃত্বে দৃঢ়তা ছিল, আবার মাতৃত্বে ছিল শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য। এই দুইয়ের মিলনেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় উদাহরণে ভরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ, রেমিটেন্স ও অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা যারা শুধু মুখে বলেছে, তাদের অনেকেই তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি। অথচ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারই প্রথম দেশে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু করে। তথ্যপ্রযুক্তির যে অগ্রযাত্রা আজ বাংলাদেশে দৃশ্যমান, তার ভিত্তি তখনই রচিত হয়েছিল। সেই সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা ছিল সময়ের তুলনায় অনেক অগ্রসর চিন্তা।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রী হলেও অনিয়মের অভিযোগে ছাড় দেননি। নিজের দলের সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হননি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। এত নির্যাতন ও অবহেলার পরও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানানো কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।’

শোকসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/এমএইচএম/জেএইচ/