শিরোনাম

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যারা
বঙ্গভবন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নাম ঘুরছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম বিবেচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় আছে।

তবে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেনের নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটসহ ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। আর বিকালে হবে মন্ত্রিসভার শপথ।

নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’

নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানান।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ আছে মো. সাহাবুদ্দিনের। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ থাকলেও তিনি পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্সের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারে।

বিএনপি সরকার গঠন করলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন আলোচনা আগেও হয়েছে। ২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির এক বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার ধানের শীষ প্রতীকে কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১ সালে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলীয় কার্যক্রমে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকেন বলে জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র। রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে তিনি নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন বলেও দাবি সূত্রটির।

রাষ্ট্রপতি পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় থাকলেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে দলের ভেতরে। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম খান। এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

যদিও নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা এখন শুধুই আলোচনা। আগামীকাল মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির বিষয়টিও স্পষ্ট হতে পারে।

/জেএইচ/