ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক: জামায়াত আমীর

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক: জামায়াত আমীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই রাস্তা রাস্তার মতো এবং পরিচ্ছন্ন থাকুক। রাস্তায় কোনো ব্যবসা না হোক। কিন্তু এই যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদেরও উপযুক্ত স্থানে জায়গা করে দেওয়া হোক। তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে, সম্মানের সঙ্গে খেটে খেয়ে বাঁচতে পারে। তিনি বলেন, তারা তো বিরাট কোটিপতি হতে চায় না। তাদের পরিবারের মুখে একটু ভাত, পিঠে একটু কাপড় জোটাতে চায়; অসুখ হলে একটু ওষুধ নিতে চায়। এতটুকুই তাদের জীবন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ১০ নম্বরের হোপ মার্কেটে পুড়ে যাওয়া দোকান পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল রাস্তা ও ফুটপাতে যারা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করা বা সরিয়ে দেওয়া। দেশ আমাদের সকলের। দেশের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সকলের। আর নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার দেখার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্রাম থেকে এসে একটু আশ্রয় নেন। তারা ব্যবসা করবেন। কিন্তু সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভাইয়েরা ফুটপাতে এবং রাস্তায় ব্যবসা করেন। এই ব্যবসাও স্বস্তির নয়। ঘাটে ঘাটে তাদের চাঁদা দিতে হয়। অল্প পুঁজির এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজরা সুবিধা নেয়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক এমনকি বার্ষিক- বিভিন্ন ধরনের চাঁদা আদায় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা, আর ফুটপাত মানুষের পায়ে হেঁটে চলার জন্য। কিন্তু আমাদের শৃঙ্খলার অভাবে, রাস্তাগুলো পরিচ্ছন্ন, সুপরিসর না হওয়ার কারণে অনেক বিপত্তি ঘটে। মানুষের কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষের দাবি যে রাস্তা যেন চলাচলের উপযোগী থাকে। এটাই হওয়া স্বাভাবিক।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে এই সমস্যার একটা টেকসই সমন্বিত সমাধান করতে হবে। এদেরও খাওয়া-বাঁচার ব্যবস্থা করা লাগবে। তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক কোনো জায়গা তৈরি করতে হবে। সেই জায়গায় তারা ব্যবসা করবে। এটা থেকে ট্যাক্স পাবে সিটি কর্পোরেশন এবং যৌক্তিক ট্যাক্স। কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। চাঁদার যন্ত্রণায় যেন তাদের ভুগতে না হয়।
তিনি বলেন, আমরা এই সমস্ত ভাইদেরকে বলব, দেশ আমাদের সবার। আমরা কেউ শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করব না। আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। এটা ঠিক হয়নাই। যানবাহনের কোনো দোষ নাই। দোষ করলে আমরা ব্যক্তি করতে পারি। সরকারি যানবাহন কিন্তু আপনারও ট্যাক্সের টাকা। এখানে আপনিও শরিক। এটা যদি একবার ধ্বংস হয়, দেশের ক্ষতি হবে। সেই ক্ষতির অংশীদার আপনিও হবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষেই কিছু আহত হয়েছেন। আমরা সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। ধৈর্য ধরে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যেই পথটা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, সবার জন্য উপকারী।
তিনি আরও বলেন, এখানে মসজিদের প্রপার্টি- সম্ভবত কোনো গোডাউন জাতীয় কিছু ছিল সেটা পুড়ে গেছে। যতটুকু বুঝতে পারলাম, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে। এতে জিনিসগুলো পুড়ে গেছে। আশা করি এই ক্ষতি তারা পুষায়ে নিবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আছেন। সরকারকেও অনুরোধ করব- মসজিদের এই প্রপার্টি টুকটাক যে ক্ষতি হয়েছে, সেইটার দিকে একটু সুনজর দেবেন।
সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, শুধু মিরপুর না, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করেন। চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি বন্ধ করেন। বিভিন্ন জায়গায় মদ ও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরেন। আর ইতিমধ্যে যারা ঢাকা মহানগরীতে অনেকগুলো বড় অপকর্ম করেছে, তাদেরকে ধরে এনে শাস্তি দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন একা পারবে না। জনগণের সহযোগিতা লাগবে। ভালো কাজে প্রশাসন ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, আমরা রুখে দাঁড়াব। আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন আর অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করুক।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কীভাবে সমন্বিতভাবে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেইভাবে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ আমার, আপনার সবার। দেশ সুন্দর থাকলে আপনি ভালো থাকবেন। দেশ অসুন্দর হলে আপনি-আমি কেউ ভালো থাকব না। আমরা একটা ভালো দেশ চাই। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। দখলদারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ। তবেই আমরা একটা পরিচ্ছন্ন মানবিক বাংলাদেশ পাব।
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে দুইটা নির্বাচনী এলাকা পড়েছে। এই এলাকা ১৬ নম্বর, ওই এলাকা হচ্ছে ১৫ নম্বর। আমরা এখানে যারা এমপিরা আছি, সংসদ সদস্য তো আপনারাই বানাইছেন, জনগণ আমাদেরকে বানাইছে। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা আমাদের দায়িত্ব। এত বড় একটা অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে যদি এটাতে সম্পৃক্ত করা হতো, আমরা আশা করি যে শান্তিপূর্ণভাবে ভালো সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও আমরা আহ্বান জানাব যে সরকারের তরফ থেকে যে উদ্যোগই নেওয়া হবে জনকল্যাণে, সেটা যেন জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে করা হয়। তাহলে জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বিশৃঙ্খলা-সন্ত্রাস থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই রাস্তা রাস্তার মতো এবং পরিচ্ছন্ন থাকুক। রাস্তায় কোনো ব্যবসা না হোক। কিন্তু এই যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদেরও উপযুক্ত স্থানে জায়গা করে দেওয়া হোক। তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে, সম্মানের সঙ্গে খেটে খেয়ে বাঁচতে পারে। তিনি বলেন, তারা তো বিরাট কোটিপতি হতে চায় না। তাদের পরিবারের মুখে একটু ভাত, পিঠে একটু কাপড় জোটাতে চায়; অসুখ হলে একটু ওষুধ নিতে চায়। এতটুকুই তাদের জীবন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ১০ নম্বরের হোপ মার্কেটে পুড়ে যাওয়া দোকান পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল রাস্তা ও ফুটপাতে যারা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করা বা সরিয়ে দেওয়া। দেশ আমাদের সকলের। দেশের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সকলের। আর নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার দেখার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্রাম থেকে এসে একটু আশ্রয় নেন। তারা ব্যবসা করবেন। কিন্তু সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভাইয়েরা ফুটপাতে এবং রাস্তায় ব্যবসা করেন। এই ব্যবসাও স্বস্তির নয়। ঘাটে ঘাটে তাদের চাঁদা দিতে হয়। অল্প পুঁজির এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজরা সুবিধা নেয়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক এমনকি বার্ষিক- বিভিন্ন ধরনের চাঁদা আদায় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা, আর ফুটপাত মানুষের পায়ে হেঁটে চলার জন্য। কিন্তু আমাদের শৃঙ্খলার অভাবে, রাস্তাগুলো পরিচ্ছন্ন, সুপরিসর না হওয়ার কারণে অনেক বিপত্তি ঘটে। মানুষের কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষের দাবি যে রাস্তা যেন চলাচলের উপযোগী থাকে। এটাই হওয়া স্বাভাবিক।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে এই সমস্যার একটা টেকসই সমন্বিত সমাধান করতে হবে। এদেরও খাওয়া-বাঁচার ব্যবস্থা করা লাগবে। তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক কোনো জায়গা তৈরি করতে হবে। সেই জায়গায় তারা ব্যবসা করবে। এটা থেকে ট্যাক্স পাবে সিটি কর্পোরেশন এবং যৌক্তিক ট্যাক্স। কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। চাঁদার যন্ত্রণায় যেন তাদের ভুগতে না হয়।
তিনি বলেন, আমরা এই সমস্ত ভাইদেরকে বলব, দেশ আমাদের সবার। আমরা কেউ শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করব না। আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। এটা ঠিক হয়নাই। যানবাহনের কোনো দোষ নাই। দোষ করলে আমরা ব্যক্তি করতে পারি। সরকারি যানবাহন কিন্তু আপনারও ট্যাক্সের টাকা। এখানে আপনিও শরিক। এটা যদি একবার ধ্বংস হয়, দেশের ক্ষতি হবে। সেই ক্ষতির অংশীদার আপনিও হবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষেই কিছু আহত হয়েছেন। আমরা সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। ধৈর্য ধরে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যেই পথটা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, সবার জন্য উপকারী।
তিনি আরও বলেন, এখানে মসজিদের প্রপার্টি- সম্ভবত কোনো গোডাউন জাতীয় কিছু ছিল সেটা পুড়ে গেছে। যতটুকু বুঝতে পারলাম, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে। এতে জিনিসগুলো পুড়ে গেছে। আশা করি এই ক্ষতি তারা পুষায়ে নিবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আছেন। সরকারকেও অনুরোধ করব- মসজিদের এই প্রপার্টি টুকটাক যে ক্ষতি হয়েছে, সেইটার দিকে একটু সুনজর দেবেন।
সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, শুধু মিরপুর না, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করেন। চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি বন্ধ করেন। বিভিন্ন জায়গায় মদ ও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরেন। আর ইতিমধ্যে যারা ঢাকা মহানগরীতে অনেকগুলো বড় অপকর্ম করেছে, তাদেরকে ধরে এনে শাস্তি দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন একা পারবে না। জনগণের সহযোগিতা লাগবে। ভালো কাজে প্রশাসন ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, আমরা রুখে দাঁড়াব। আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন আর অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করুক।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কীভাবে সমন্বিতভাবে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেইভাবে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ আমার, আপনার সবার। দেশ সুন্দর থাকলে আপনি ভালো থাকবেন। দেশ অসুন্দর হলে আপনি-আমি কেউ ভালো থাকব না। আমরা একটা ভালো দেশ চাই। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। দখলদারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ। তবেই আমরা একটা পরিচ্ছন্ন মানবিক বাংলাদেশ পাব।
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে দুইটা নির্বাচনী এলাকা পড়েছে। এই এলাকা ১৬ নম্বর, ওই এলাকা হচ্ছে ১৫ নম্বর। আমরা এখানে যারা এমপিরা আছি, সংসদ সদস্য তো আপনারাই বানাইছেন, জনগণ আমাদেরকে বানাইছে। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা আমাদের দায়িত্ব। এত বড় একটা অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে যদি এটাতে সম্পৃক্ত করা হতো, আমরা আশা করি যে শান্তিপূর্ণভাবে ভালো সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও আমরা আহ্বান জানাব যে সরকারের তরফ থেকে যে উদ্যোগই নেওয়া হবে জনকল্যাণে, সেটা যেন জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে করা হয়। তাহলে জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বিশৃঙ্খলা-সন্ত্রাস থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক: জামায়াত আমীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই রাস্তা রাস্তার মতো এবং পরিচ্ছন্ন থাকুক। রাস্তায় কোনো ব্যবসা না হোক। কিন্তু এই যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদেরও উপযুক্ত স্থানে জায়গা করে দেওয়া হোক। তারা যাতে ব্যবসা করতে পারে, সম্মানের সঙ্গে খেটে খেয়ে বাঁচতে পারে। তিনি বলেন, তারা তো বিরাট কোটিপতি হতে চায় না। তাদের পরিবারের মুখে একটু ভাত, পিঠে একটু কাপড় জোটাতে চায়; অসুখ হলে একটু ওষুধ নিতে চায়। এতটুকুই তাদের জীবন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ১০ নম্বরের হোপ মার্কেটে পুড়ে যাওয়া দোকান পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল রাস্তা ও ফুটপাতে যারা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করা বা সরিয়ে দেওয়া। দেশ আমাদের সকলের। দেশের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সকলের। আর নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার দেখার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্রাম থেকে এসে একটু আশ্রয় নেন। তারা ব্যবসা করবেন। কিন্তু সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভাইয়েরা ফুটপাতে এবং রাস্তায় ব্যবসা করেন। এই ব্যবসাও স্বস্তির নয়। ঘাটে ঘাটে তাদের চাঁদা দিতে হয়। অল্প পুঁজির এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজরা সুবিধা নেয়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক এমনকি বার্ষিক- বিভিন্ন ধরনের চাঁদা আদায় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা, আর ফুটপাত মানুষের পায়ে হেঁটে চলার জন্য। কিন্তু আমাদের শৃঙ্খলার অভাবে, রাস্তাগুলো পরিচ্ছন্ন, সুপরিসর না হওয়ার কারণে অনেক বিপত্তি ঘটে। মানুষের কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষের দাবি যে রাস্তা যেন চলাচলের উপযোগী থাকে। এটাই হওয়া স্বাভাবিক।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে এই সমস্যার একটা টেকসই সমন্বিত সমাধান করতে হবে। এদেরও খাওয়া-বাঁচার ব্যবস্থা করা লাগবে। তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক কোনো জায়গা তৈরি করতে হবে। সেই জায়গায় তারা ব্যবসা করবে। এটা থেকে ট্যাক্স পাবে সিটি কর্পোরেশন এবং যৌক্তিক ট্যাক্স। কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। চাঁদার যন্ত্রণায় যেন তাদের ভুগতে না হয়।
তিনি বলেন, আমরা এই সমস্ত ভাইদেরকে বলব, দেশ আমাদের সবার। আমরা কেউ শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করব না। আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। এটা ঠিক হয়নাই। যানবাহনের কোনো দোষ নাই। দোষ করলে আমরা ব্যক্তি করতে পারি। সরকারি যানবাহন কিন্তু আপনারও ট্যাক্সের টাকা। এখানে আপনিও শরিক। এটা যদি একবার ধ্বংস হয়, দেশের ক্ষতি হবে। সেই ক্ষতির অংশীদার আপনিও হবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষেই কিছু আহত হয়েছেন। আমরা সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। ধৈর্য ধরে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যেই পথটা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, সবার জন্য উপকারী।
তিনি আরও বলেন, এখানে মসজিদের প্রপার্টি- সম্ভবত কোনো গোডাউন জাতীয় কিছু ছিল সেটা পুড়ে গেছে। যতটুকু বুঝতে পারলাম, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে। এতে জিনিসগুলো পুড়ে গেছে। আশা করি এই ক্ষতি তারা পুষায়ে নিবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আছেন। সরকারকেও অনুরোধ করব- মসজিদের এই প্রপার্টি টুকটাক যে ক্ষতি হয়েছে, সেইটার দিকে একটু সুনজর দেবেন।
সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, শুধু মিরপুর না, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করেন। চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি বন্ধ করেন। বিভিন্ন জায়গায় মদ ও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরেন। আর ইতিমধ্যে যারা ঢাকা মহানগরীতে অনেকগুলো বড় অপকর্ম করেছে, তাদেরকে ধরে এনে শাস্তি দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন একা পারবে না। জনগণের সহযোগিতা লাগবে। ভালো কাজে প্রশাসন ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, আমরা রুখে দাঁড়াব। আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন আর অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করুক।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কীভাবে সমন্বিতভাবে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেইভাবে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ আমার, আপনার সবার। দেশ সুন্দর থাকলে আপনি ভালো থাকবেন। দেশ অসুন্দর হলে আপনি-আমি কেউ ভালো থাকব না। আমরা একটা ভালো দেশ চাই। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। দখলদারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ। তবেই আমরা একটা পরিচ্ছন্ন মানবিক বাংলাদেশ পাব।
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে দুইটা নির্বাচনী এলাকা পড়েছে। এই এলাকা ১৬ নম্বর, ওই এলাকা হচ্ছে ১৫ নম্বর। আমরা এখানে যারা এমপিরা আছি, সংসদ সদস্য তো আপনারাই বানাইছেন, জনগণ আমাদেরকে বানাইছে। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা আমাদের দায়িত্ব। এত বড় একটা অভিযান চালানোর আগে আমাদেরকে যদি এটাতে সম্পৃক্ত করা হতো, আমরা আশা করি যে শান্তিপূর্ণভাবে ভালো সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পারতাম।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও আমরা আহ্বান জানাব যে সরকারের তরফ থেকে যে উদ্যোগই নেওয়া হবে জনকল্যাণে, সেটা যেন জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে করা হয়। তাহলে জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বিশৃঙ্খলা-সন্ত্রাস থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো।

মিরপুরের হামলা পরিকল্পিত: ডিএনসিসি প্রশাসক
নিজ নির্বাচনী এলাকায় না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে বিস্মিত জামায়াত আমির
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ, সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে আগুন






