নানামুখী জটিলতায় আটকে বিশেষায়িত ক্যান্সার-কিডনি হাসপাতাল

নানামুখী জটিলতায় আটকে বিশেষায়িত ক্যান্সার-কিডনি হাসপাতাল
সিজেডএন ডেস্ক

সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য আধুনিক ক্যান্সার ও কিডনি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ক্যান্সার ও কিডনি ইউনিট স্থাপন প্রকল্প। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও হাসপাতালটি চালু হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়। জনবল অনুমোদনে বিলম্ব, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির জটিলতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের অক্টোবরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই বিশেষায়িত ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭ তলা ভিত্তির ওপর ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে সময়সূচি পিছিয়ে যায়। বর্তমানে ভবনের প্রায় ৯৮ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুটি বেজমেন্টসহ ভবনের সিভিল, স্যানিটারি ও অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজ শেষ হয়েছে। কেবল লিফট স্থাপন এবং কয়েকটি আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে ক্যান্সার রোগীদের জন্য আধুনিক রেডিওথেরাপি ও ব্র্যাকিথেরাপি ইউনিট, ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি ওয়ার্ড, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক বিশেষায়িত ওয়ার্ড, সার্জিক্যাল ব্লক, নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা, নেফ্রোলজি ইউনিট, অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ডে-কেয়ার কার্ডিয়াক সেন্টার স্থাপনের কথা রয়েছে।
তবে বাস্তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষের পথে থাকলেও চিকিৎসাসেবা চালুর প্রস্তুতি এখনো অনেক দূরে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হচ্ছে না।
জানা গেছে, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ক্যান্সার চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর, ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন এবং আধুনিক ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব যন্ত্রপাতি কেনার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্যান্সার ও কিডনি রোগীরা। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপি বা ডায়ালাইসিস সেবা না পেয়ে চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
বিদেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন করানো কাউসার চৌধুরী বলেন, সিলেটে আধুনিক ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ভবন তৈরি হওয়ার পরও বছরের পর বছর চালু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওসমানী হাসপাতালের নতুন ভবনটি যেন আরেকটি অচল অবকাঠামোয় পরিণত না হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মনসুর রহমান জানান, তাদের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এখন ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। ভবনের আসবাবপত্র ও লিফট স্থাপনের দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের।
সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নির্মাণসংক্রান্ত প্রায় সব কাজ শেষ হলেও লিফট স্থাপন এখনো সম্ভব হয়নি। কারণ কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও পুরোনো দামে কোনো প্রতিষ্ঠান লিফট সরবরাহে আগ্রহ দেখায়নি। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রকল্প পরিচালক ডা. তৌফিক হাসান ফিরোজ বলেন, প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের সময় ডলারের মূল্য অনেক কম ছিল। পরবর্তীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, এটি শুধু সিলেটের প্রকল্প নয়; একই কর্মসূচির আওতায় দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। সব প্রকল্পের সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জনবল সংকটের বিষয়েও তিনি বলেন, আটটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বিদেশ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি এবং সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সময় লাগবে। সে কারণে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবকাঠামো নির্মাণের পরও যদি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে হাসপাতাল চালু না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে হাসপাতালটি চালু করা গেলে সিলেটসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন এবং ঢাকামুখী রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য আধুনিক ক্যান্সার ও কিডনি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ক্যান্সার ও কিডনি ইউনিট স্থাপন প্রকল্প। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও হাসপাতালটি চালু হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়। জনবল অনুমোদনে বিলম্ব, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির জটিলতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের অক্টোবরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই বিশেষায়িত ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭ তলা ভিত্তির ওপর ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে সময়সূচি পিছিয়ে যায়। বর্তমানে ভবনের প্রায় ৯৮ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুটি বেজমেন্টসহ ভবনের সিভিল, স্যানিটারি ও অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজ শেষ হয়েছে। কেবল লিফট স্থাপন এবং কয়েকটি আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে ক্যান্সার রোগীদের জন্য আধুনিক রেডিওথেরাপি ও ব্র্যাকিথেরাপি ইউনিট, ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি ওয়ার্ড, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক বিশেষায়িত ওয়ার্ড, সার্জিক্যাল ব্লক, নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা, নেফ্রোলজি ইউনিট, অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ডে-কেয়ার কার্ডিয়াক সেন্টার স্থাপনের কথা রয়েছে।
তবে বাস্তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষের পথে থাকলেও চিকিৎসাসেবা চালুর প্রস্তুতি এখনো অনেক দূরে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হচ্ছে না।
জানা গেছে, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ক্যান্সার চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর, ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন এবং আধুনিক ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব যন্ত্রপাতি কেনার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্যান্সার ও কিডনি রোগীরা। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপি বা ডায়ালাইসিস সেবা না পেয়ে চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
বিদেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন করানো কাউসার চৌধুরী বলেন, সিলেটে আধুনিক ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ভবন তৈরি হওয়ার পরও বছরের পর বছর চালু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওসমানী হাসপাতালের নতুন ভবনটি যেন আরেকটি অচল অবকাঠামোয় পরিণত না হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মনসুর রহমান জানান, তাদের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এখন ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। ভবনের আসবাবপত্র ও লিফট স্থাপনের দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের।
সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নির্মাণসংক্রান্ত প্রায় সব কাজ শেষ হলেও লিফট স্থাপন এখনো সম্ভব হয়নি। কারণ কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও পুরোনো দামে কোনো প্রতিষ্ঠান লিফট সরবরাহে আগ্রহ দেখায়নি। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রকল্প পরিচালক ডা. তৌফিক হাসান ফিরোজ বলেন, প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের সময় ডলারের মূল্য অনেক কম ছিল। পরবর্তীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, এটি শুধু সিলেটের প্রকল্প নয়; একই কর্মসূচির আওতায় দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। সব প্রকল্পের সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জনবল সংকটের বিষয়েও তিনি বলেন, আটটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বিদেশ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি এবং সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সময় লাগবে। সে কারণে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবকাঠামো নির্মাণের পরও যদি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে হাসপাতাল চালু না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে হাসপাতালটি চালু করা গেলে সিলেটসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন এবং ঢাকামুখী রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

নানামুখী জটিলতায় আটকে বিশেষায়িত ক্যান্সার-কিডনি হাসপাতাল
সিজেডএন ডেস্ক

সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য আধুনিক ক্যান্সার ও কিডনি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ক্যান্সার ও কিডনি ইউনিট স্থাপন প্রকল্প। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও হাসপাতালটি চালু হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত নয়। জনবল অনুমোদনে বিলম্ব, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির জটিলতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের অক্টোবরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই বিশেষায়িত ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭ তলা ভিত্তির ওপর ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে সময়সূচি পিছিয়ে যায়। বর্তমানে ভবনের প্রায় ৯৮ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুটি বেজমেন্টসহ ভবনের সিভিল, স্যানিটারি ও অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজ শেষ হয়েছে। কেবল লিফট স্থাপন এবং কয়েকটি আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে ক্যান্সার রোগীদের জন্য আধুনিক রেডিওথেরাপি ও ব্র্যাকিথেরাপি ইউনিট, ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি ওয়ার্ড, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক বিশেষায়িত ওয়ার্ড, সার্জিক্যাল ব্লক, নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা, নেফ্রোলজি ইউনিট, অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ডে-কেয়ার কার্ডিয়াক সেন্টার স্থাপনের কথা রয়েছে।
তবে বাস্তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষের পথে থাকলেও চিকিৎসাসেবা চালুর প্রস্তুতি এখনো অনেক দূরে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হচ্ছে না।
জানা গেছে, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ক্যান্সার চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর, ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন এবং আধুনিক ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব যন্ত্রপাতি কেনার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ক্যান্সার ও কিডনি রোগীরা। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তারা প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপি বা ডায়ালাইসিস সেবা না পেয়ে চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
বিদেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন করানো কাউসার চৌধুরী বলেন, সিলেটে আধুনিক ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগে তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ভবন তৈরি হওয়ার পরও বছরের পর বছর চালু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওসমানী হাসপাতালের নতুন ভবনটি যেন আরেকটি অচল অবকাঠামোয় পরিণত না হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মনসুর রহমান জানান, তাদের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এখন ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। ভবনের আসবাবপত্র ও লিফট স্থাপনের দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের।
সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, নির্মাণসংক্রান্ত প্রায় সব কাজ শেষ হলেও লিফট স্থাপন এখনো সম্ভব হয়নি। কারণ কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও পুরোনো দামে কোনো প্রতিষ্ঠান লিফট সরবরাহে আগ্রহ দেখায়নি। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রকল্প পরিচালক ডা. তৌফিক হাসান ফিরোজ বলেন, প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের সময় ডলারের মূল্য অনেক কম ছিল। পরবর্তীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, এটি শুধু সিলেটের প্রকল্প নয়; একই কর্মসূচির আওতায় দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। সব প্রকল্পের সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জনবল সংকটের বিষয়েও তিনি বলেন, আটটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বিদেশ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি এবং সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সময় লাগবে। সে কারণে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবকাঠামো নির্মাণের পরও যদি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে হাসপাতাল চালু না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে হাসপাতালটি চালু করা গেলে সিলেটসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন এবং ঢাকামুখী রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।









-CznNewsLab-ecd1fc.jpg)