শিরোনাম

মন্ত্রিসভার শপথ: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হ্যাটট্রিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্ত্রিসভার শপথ: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হ্যাটট্রিক
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দেশের শাসনব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করে বিরল নজির স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী টানা তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে তিনি এক ধরনের ‘হ্যাটট্রিক’ সম্পন্ন করেছেন– যা দেশের সংবিধানিক ইতিহাসে অনন্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথমবার ২০২৪ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শপথবাক্য পাঠ করান। সে সময় দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ছাত্রজনতার গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি সেই সরকারকেও শপথবাক্য পাঠ করান, যা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি আবারও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের শপথবাক্য পাঠ করান।

এই তিনটি শপথ অনুষ্ঠান– ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ, গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ এবং চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর শপথ– মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী বিরল এক নজির স্থাপন করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংকটপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধারাবাহিকভাবে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে রাষ্ট্রপতি দেশের সব স্তরের জনগণকে সংবিধান ও নির্বাচিত সরকারের প্রতি আস্থা রেখে দেশের অগ্রগতিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাজধানীর বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ধারাবাহিক তিনটি রাজনৈতিক পালাবদলের সময়ে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত

/এসএ/