পাকিস্তানের অনুমতি নিয়েই দেশে এলো ইউরেনিয়ামবাহী বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানের অনুমতি নিয়েই দেশে এলো ইউরেনিয়ামবাহী বিমান
ইউরেনিয়ামবাহী বিমান

অবশেষে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেই রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামবাহী বিমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে ইউরেনিয়ামবাহী ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত কারণে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি দিতে বিলম্ব করে।

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে জানায়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।

হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দারও একই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বিমান চলাচলের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং কারিগরি কারণে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।’

এদিকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেছেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় রাতেই চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি।

একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয় বলে জানান রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তবে রোসাটম জানায়, অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হয়ে বছরের শেষ নাগাদ সব চালান সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ইউরেনিয়াম আনা হবে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে।

রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে এসব চালান।

এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান দেশে এসেছিল। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়।

/জেএইচ/