শিরোনাম

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত মুস্তাফা মনোয়ার

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত মুস্তাফা মনোয়ার
শহীদ মিনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: কোলাজ, সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায় জানাতে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়েছে। সেখানে নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ বরেণ্য এই শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১টায় মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বহনকারী গাড়িটি বিটিভি প্রাঙ্গণ থেকে শহীদ মিনারে আনা হয়। এরপর থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।

মোস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান। এছাড়াও এই তালিকায় ছিলেনৈ, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলা, কাজী তামান্না ও গোলাম রাব্বানী।

পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমিসহ চারুকলা ও বামপন্থী ছাত্রফ্রন্টের পক্ষ থেকেও তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এর আগে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে এই শিল্পীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ জুন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মোস্তাফা মনোয়ার। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন মুস্তাফা মনোয়ার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় আশার আলো দেখা দেয়। তবে পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

দেশবরেণ্য এই চিত্রশিল্পী ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

পাঁচ বছর বয়সে মুস্তাফা মনোয়ারের মা জমিলা খাতুন মারা যান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার তিনি সবার ছোট।

নারায়ণগঞ্জ গভার্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। তবে সেখানে পড়াশোনা শেষ না করে তিনি কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের রয়েছে এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।

গুণী এই চিত্রশিল্পী তার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন মোস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও ১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পদক, ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কর্তৃক কিডস সম্মাননা পদক পান। ২০০২ সালে চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

/জেএইচ/