শিরোনাম

নতুন যে নামে আসছে জুলাই প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন যে নামে আসছে জুলাই প্রকল্প
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লোগো

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সরকারের অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ প্রকল্পের নাম ও কার্যপরিধিতে আনা হচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন। শুধু জুলাই আন্দোলনের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণেই সীমাবদ্ধ না থেকে এখন এতে মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ডকুমেন্টারি এবং তথ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পটির নাম ‘দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’। কিন্তু এটি বদলে রাখা হচ্ছে ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ, ডকুমেন্টারি তৈরি এবং গণতান্ত্রিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তৈরির লক্ষ্যে তথ্যচিত্র নির্মাণ’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজের পরিধি ও উদ্দেশ্য সম্প্রসারণের কারণেই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২ জুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৮ জুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভায় বিষয়টি জানানো হয়।

তবে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ৪৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার এ প্রকল্পে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বাস্তবায়নের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ শতাংশে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত থাকলেও অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতায় মূল কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, নতুন কার্যক্রম যুক্ত হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রকল্পের মূল ফোকাস থেকে সরে যাচ্ছে না। অনুমোদিত সব কার্যক্রম বহাল রেখেই অতিরিক্ত কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প শুরুর প্রায় ১১ মাস পর অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। তাই ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও আর্কাইভ তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় দলিল সংগ্রহ, ফুটেজ সংরক্ষণ ও ডকুমেন্টারি নির্মাণের মতো মূল কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এরই মধ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন, নথিপত্র প্রস্তুত এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক জটিলতাও সামনে এসেছে। সরকারি ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র কেনার জন্য হওয়া কয়েকটি ক্রয়চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সার্বজনীন পেনশন স্কিম, পোশাক বাবদ ব্যয়সীমা এবং পরামর্শকদের দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়েও নীতিগত অস্পষ্টতা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় অংশ নেওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাজেদুল হাসান মতে, নতুন কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটি তার প্রাথমিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ছোট পরিসরের প্রকল্প বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে সহজ এবং অধিক কার্যকর হয়।

/এসবি/