শিরোনাম

বইমেলায় পাঠকের পছন্দে এগিয়ে ছোটদের গল্প ও ইতিহাসের বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
বইমেলায় পাঠকের পছন্দে এগিয়ে ছোটদের গল্প ও ইতিহাসের বই
বইমেলায় পরিবারের সঙ্গে এসে বই কিনছেন ছোটরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

অমর একুশে বইমেলা সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে থাকে। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন থাকায় মেলা কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয়। বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় মেলা প্রাঙ্গণে পাঠক ও দর্শনার্থীদের ভিড় তুলনামূলক কম। তবুও বইয়ের গন্ধে ভরা মেলাপ্রাঙ্গণ থেমে নেই। মেলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিক্রির তালিকায় এগিয়ে আছে ছোটদের গল্পের বই। অন্যদিকে তরুণ পাঠকের আগ্রহ ইতিহাসভিত্তিক বই ও উপন্যাসের দিকে।

দেশ-বিদেশের অতীত, যুদ্ধ, রাজনীতি ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখা গ্রন্থের খোঁজ করছেন তরুণরা। ফলে এবারের বইমেলায় একদিকে যেমন ছোটদের গল্পের বইয়ের প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তেমনি তরুণদের মধ্যে উপন্যাস পড়া ও ইতিহাস জানার তীব্র কৌতূহলও প্রকাশ পাচ্ছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বইমেলায় গিয়ে বই স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি এবং প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

অন্য প্রকাশের পরিচালক ও প্রকাশক সিরাজুল কবির চৌধুরী সিটিজেন জার্নাল ২৪ ডট কম-কে বলেন, ‘পাঠকরা সবসময় উপন্যাস বেশি কিনে। ইতিহাসের বই, কবিতা, অনুবাদ এবং বাচ্চাদের বইও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’ তার মতে, বইমেলা ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হলে ভালো হতো।

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) এবং আজকে (শনিবার) মেলায় অনেক মানুষ এসেছে। তবে, সবাই বই কেনেন না। আমরা চাই যারাই বইমেলায় আসুক, সবাই যাতে বই কেনে। লোকজন বেশি করে বই কিনুক সেটাই আমরা চাই।’

তবে, বইমেলায় যারা অংশগ্রহণ করেছে, তাদের ব্যবসা তেমন ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এবার প্যাভিলিয়ন না থাকায় বইয়ের ডিসপ্লে করতে অসুবিধা হচ্ছে বলেও জানান অন্য প্রকাশের পরিচালক ও প্রকাশক সিরাজুল কবির।

এদিকে বই স্টল প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের বইমেলায় বাচ্চাদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তরুণরা ইতিহাস, জিও পলিটিক্স, চিরায়ত উপন্যাস, অনুবাদ, অর্থনীতি এবং থ্রিলার বই বেশি বিক্রি হয়েছে। কাপলরা রোমান্টিক টাইপের উপন্যাসগুলো বেশি কিনছে বলে জানান তারা।

এদিকে ধর্মীয় যে বই রয়েছে, সেগুলো তেমন বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রয় প্রতিনিধিরা। তবে, সামনের দিনগুলোতে বই বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী প্রকাশক ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

অনুপ্রানন প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি সোহেল রানা বলেন, ‘বাচ্চাদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর তরুণরা ইতিহাস ও জিও পলিটিক্সের বই বেশি কিনছেন। আর কাপলরা রোমান্টিক টাইপের উপন্যাসগুলো বেশি কিনছেন।’ তার স্টল থেকে তেমন একটা কবিতার বই বিক্রি হয়নি বলে বলে জানান।

আলোঘর প্রকাশনার বিক্রয় প্রতিনিধি মো. নাইম ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চাদের বইয়ের পাশাপাশি তরুণরা চিরায়ত উপন্যাস এবং ইতিহাসের বই বেশি কিনছেন। যারা সপ্তম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়েন, তারা থ্রিলার, হরর, গোয়েন্দা টাইপের বইগুলোও অনেক কিনছেন।’

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ম্যানেজার মো. আমজাদ হোসেন খান কাজল জানান, গল্প-কবিতা, উপন্যাস, অর্থনীতি, অনুবাদ এবং জুলাই বিপ্লব নিয়ে লেখা বই ভালো বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কথা প্রকাশের ইনচার্জ জাফিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক আজিজের লেখা অতীত ঢাকার আরও ইতিহাস, জাহাঙ্গীর মো. আরিফের লেখা রোদের ঘ্রাণ আর বাতাসের রং, ইশতিয়াক হাসের লেখা বাংলার পাহাড়ের জঙ্গলে- ইতিহাসের এই বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে, চিরায়ত উপন্যাসগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

বইয়ের স্টলগুলোতে পাঠকরা তাদের পছন্দের বই পাচ্ছে এবং কিনতে পারছেন। ইমরান মানের একজন পাঠক বলেন, ‘আমি একটি ইতিহাসের বই এবং উপন্যাস কিনেছি। বইয়ের স্টলে গিয়ে বলার সঙ্গে সঙ্গে আমি পেয়েছি।’

বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, অমর একুশে বইমেলায় শুক্রবার (৭ মার্চ) নতুন বই এসেছে ১৮৫টি। এছাড়া মেলায় মোট নতুন বইয়ের সংখ্যা ৭৫৮টি।

এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রয়েছে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে বইমেলা।

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে বইমেলা। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। আর ছুটির দিনে মেলা শুরু হয় সকাল ১১ থেকে।

/টিই/