লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব
লঞ্চ। ছবি: জাকির হোসেন

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য সেক্টরেও। বাসের পর এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। সংগঠনটি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে বর্তমান কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে যাত্রীভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর।

চিঠিতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে বর্তমান কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বর্তমান ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

গত রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে প্রতি লিটার পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। আর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা।

লঞ্চ মালিকদের দাবি, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো মূলত ডিজেল ও মবিলনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

চিঠিতে জ্বালানির পাশাপাশি নৌযান পরিচালনার অন্যান্য খরচও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। লঞ্চ মালিকদের ভাষ্য, কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বেড়েছে। রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ডিজি শিপিংয়ের সার্ভে এবং রেজিস্ট্রেশন ফি, নাম পরিবর্তন ফি, আয়কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন ব্যয় বাড়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

নৌযান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির দাম বেড়েছে বলে দাবি লঞ্চ মালিকদের। ডকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেইসঙ্গে দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছে না। এতে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়।

এমতাবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এই ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

প্রস্তাবিত ভাড়া কার্যকর করা না হলে বর্ধিত ডিজেলের দাম প্রত্যাহার করতে হবে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

এর আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর এবার দূরপাল্লা ও মহানগরে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

/জেএইচ/