
সিটিজেন ডেস্ক


কাতারের দোহায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এলাকার বাসিন্দারা আবারও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এগুলো ছিল ইরান থেকে আসা মিসাইল ও ড্রোন ধ্বংস করার শব্দ।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ইরানি মিসাইল ও ড্রোনগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, পঞ্চম দিনে আমরা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখলাম। একটি আঘাত হেনেছে এবং একটি আটকে দেওয়া হয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এই মুহূর্তে কাতারের এই সমস্ত সংবেদনশীল এলাকাগুলোর চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
ইরান আঘাত করতে না পারলেও তারা প্রতিদিন চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। এখন উদ্বেগের বিষয় হল আগামী কয়েক দিন কাতারের উপর হামলা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএসআইএস। এতে প্রতিদিন গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৮৯১.৪ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ১ শত কোটি টাকা (১ ডলার=১২২ টাকা)।
এ তথ্য তুলে ধরেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলেছে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বর্তমান বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে প্রতিরক্ষা বিভাগের।
সিআসআইএস বলেছে, ‘বিমান হামলার শুরুতে উন্নত ও জটিল অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের কারণে খরচ বেশি হয়। যখন যুক্তরাষ্ট্র কম খরচের গোলাবারুদ ব্যবহার করা শুরু করবে, তখন অস্ত্রের খরচ কিছুটা কমে আসবে।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, ‘বাজেটের বাইরে যে খরচ হবে তা যথেষ্ট বড় হবে। এর মানে হলো কোনো এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ এই সংঘাতের খরচ অভ্যন্তরীণ বাজেট কাটছাঁট করে মেটানো রাজনৈতিক ও কার্যগতভাবে কঠিন হতে পারে।’

ইরানে মার্কিন স্থল সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে ভাবছে না যুক্তরাষ্ট্র। স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বর্তমানে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সময়ের অপচয়। তারা (ইরান) সবকিছু হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী শেষ, হারানোর মতো যা কিছু ছিল, তার সবই তারা হারিয়েছে।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানে বিদেশি সেনা মোতায়েন করা হলে তা দখলদারদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আরাগচির এ সতর্কবার্তাকে ‘অর্থহীন মন্তব্য’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সূত্র: আল–জাজিরা

লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর হামলা চালিয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছে।
শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর ওপর একাধিক হামলার দায় স্বীকার করে তারা, যার মধ্যে লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশ করা বাহিনীও রয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী বলেছে, তাদের যোদ্ধারা মারুন আল-রাস ও কফর কিলাসহ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যে এলাকাগুলো লেবাননের ভেতরে অবস্থিত।
হিজবুল্লাহ অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের ইয়োয়াভ সামরিক ঘাঁটি এবং হাইফা বন্দরের একটি নৌঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এতে ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিমানবাহী রণতরীর সমান আকারের একটি ইরানি ড্রোনবাহী জাহাজে হামলা করেছি এবং এই মুহূর্তে সেটিতে আগুন জ্বলছে।