শিরোনাম

ডিএনসিসির ১২৬০ কোটি টাকার তহবিল কোথায়, প্রশ্ন প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএনসিসির ১২৬০ কোটি টাকার তহবিল কোথায়, প্রশ্ন প্রশাসকের
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন কর্পোরেশনের জমা থাকা অর্থের বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সাবেক প্রশাসকের দাবি, ২৬টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ১,২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা রয়েছে।

তবে এই দাবির বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারী বিল পরিশোধ করা হয় কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ছিল নগদ ২৫ কোটি টাকা এবং ফিক্সড ডিপোজিট ছিল বিভিন্ন তহবিলের ৮২৫ কোটি টাকা, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাধারণ তহবিলে ছিল নগদ ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা।

১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ১১৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মোট নগদ জমা ১৭৭৫ কোটি টাকা। সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর অতি উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প খাতে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মোট ব্যয় করেছেন ১৪৩৯ কোটি টাকা। ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই নগদ জমা থাকে ৩৩৬ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি নগদ জমা দাঁড়ায় ১১৫৬ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ পুনরায় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই অল্প সময়ের মধ্যে খরচ করেন ১১৩১ কোটি টাকা।

বর্তমান প্রশাসক হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের দিন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নগদ জমা থাকে ২৫ কোটি টাকা, যা ডিএনসিসির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এছাড়া আগের বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট করা ৮২৫ কোটি টাকা রয়েছে, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ তঞ্চকতার আশ্রয় নিয়ে ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং কর্পোরেশনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল– যেমন জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল, জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) ইত্যাদি খাতের চলতি/সঞ্চয়ী হিসাবের ৪৩৫ কোটি টাকা একত্র করে মোট ১২৬০ কোটি টাকার একটি হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। এর মাধ্যমে ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসনকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রশাসক ১০ ফেব্রুয়ারি তার শেষ কর্মদিবসে সাধারণ তহবিলে স্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এবং প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে কিনা তা যাচাই না করে তাড়াহুড়ো করে ৩৬টি বিলের নথি অনুমোদন করে গেছেন যাতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাবে। বর্তমানে বর্ণিত নথিগুলো যাচাই করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

/এফসি/