সৌদি আরবকে বিপদে ফেলে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ট্রাম্প

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সৌদি আরবকে বিপদে ফেলে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ট্রাম্প
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে হুথিদের সামনে ঠেলে দিয়ে নিজে কৌশলে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রখ্যাত মার্কিন অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার। তিনি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ‘ভয়াবহ ও পরাক্রমশালী সামরিক শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রাশিয়া টুডে'কে (আরটি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণেই সৌদি এখন ইয়েমেনের এ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আরেকটি সর্বাত্মক যুদ্ধের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

রাশিয়া টুডের ‘নিউ অর্ডার’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আফশিন রাতানসির সঙ্গে আলাপকালে মিয়ারশেইমার জানান, হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানো সৌদি আরবের জন্য এক বিরাট ভুল পদক্ষেপ। তার মতে, ইয়েমেনের এ যোদ্ধারা অত্যন্ত দক্ষ ও শক্তিশালী, যাদের এককভাবে সামলানোর মতো সক্ষমতা সৌদি সামরিক বাহিনীর নেই।

মিয়ারশেইমার মনে করেন, ট্রাম্প নিজে হুথিদের ভয় পান এবং সৌদি আরবকে রক্ষা করতে এই মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র টেনে এ গবেষক জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সানার বিমানবন্দরে হামলার পেছনেও ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ উসকানি ছিল। মূলত ইরান থেকে হুথি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী একটি বিমানকে অবতরণ করতে বাধা দিতেই হামলা চালানো হয়েছিল। এর ফলে ২০২২ সালের জাতিসংঘ সমর্থিত যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেস্তে যায়।

সম্প্রতি লোহিত সাগর উপকূল এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়ায় সৌদি আরবের তেলের বাজার এখন আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে মিয়ারশেইমার উল্লেখ করেন, গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ সামরিক সহায়তার জন্য ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। এমনকি গত সপ্তাহের শেষ দিকেও হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র: আরটি

/এমএকে/