শিরোনাম

যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম

সিটিজেন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে  তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তেলের দাম। একই সময়ে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা এখন গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে প্রকৃত শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু হবে কি না।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বাজারে নতুন করে সামরিক হামলা বা বড় ধরনের সংঘাত শুরুর আশঙ্কা মোটেও কাটেনি, যা তেল ব্যবসায়ীদের চরম সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে প্রাথমিক ধাক্কা লেগেছিল, তা কাটিয়ে উঠে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চাইছে। কারণ এ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, যুদ্ধ হয়তো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে অথবা এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল অর্থনীতিতে খুব বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে বাস্তব চিত্র হলো, জ্বালানির দাম এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছে। দেশগুলো বাড়তি মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, যা তাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি করেছে। ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার মনে করেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সত্ত্বেও বাজারের সার্বিক উদ্বেগ কমেনি। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা এখনো বাজারকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/