তিন মাসে ৮৫৪ হত্যাকাণ্ড, বাড়ছে উদ্বেগ

তিন মাসে ৮৫৪ হত্যাকাণ্ড, বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক কলহ, মাদক কারবার, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এসব খুনের ঘটনা বেশি ঘটছে। কোথাও প্রেমঘটিত অথবা পরকীয়ার কারণে হত্যার শিকার হচ্ছে প্রিয়জন, আবার কোথাও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে প্রাণহানি। এসব ঘটনার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সার দেশে ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৭৫০টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ২১৭ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়েছিলেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ৭১০টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৩১, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়েছিলেন।
এদিকে রাজধানী ঢাকায়ও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে খুনের ঘটনা। গত তিন মাসে ঢাকায় মোট ১০৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে ৩৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি এবং মার্চে ৩৩টি খুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই রাজধানীতে অন্তত ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা
২২ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলায় ভাতিজাকে ছুরিকাঘাত এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিবেশী বকুল বেগম (৫৫) নামে এক নারী খুন হয়েছেন। গত ২০ এপ্রিল নওগাঁয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধারালো ছুরি দিয়ে একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা করেছে নিকটাত্মীয়রা। একই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন।
এছাড়া গত ১৭ এপ্রিল মিরপুরের দারুসসালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। একই দিনে পল্লবীতে ফিরোজা খানম ওরফে জোছনা (৬৮) নামে এক স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়। ফেনীর দাগনভূঞায় ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন।
১৫ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় আসাদুল হক নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ এপ্রিল একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলেক্স ইমন নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রেম-সংক্রান্ত বিষয়ে গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যার পর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাজধানী মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ১৩ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এগুলোই সমাজে অপরাধ কম নাকি বেশি সেটা নির্দেশ করে। তবে সম্প্রতি এসব ঘটনার পরিসংখ্যানে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এসব হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরাধের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মনে ভয়, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।একইসঙ্গে এসব ভিডিও অপরাধ প্রবণতাকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত তিন মাসের আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পারিবারিক, আর্থিক, জমিজমা সংক্রান্ত, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রেমঘটিত এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনা রোধে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের অভিযানও চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কয়েক দফা চালানো হয় অভিযান। তবে এসবের পরেও থামছে না হত্যার ঘটনা।
এদিকে পুলিশকে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারাদেশে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মবসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক কলহ, মাদক কারবার, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এসব খুনের ঘটনা বেশি ঘটছে। কোথাও প্রেমঘটিত অথবা পরকীয়ার কারণে হত্যার শিকার হচ্ছে প্রিয়জন, আবার কোথাও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে প্রাণহানি। এসব ঘটনার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সার দেশে ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৭৫০টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ২১৭ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়েছিলেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ৭১০টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৩১, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়েছিলেন।
এদিকে রাজধানী ঢাকায়ও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে খুনের ঘটনা। গত তিন মাসে ঢাকায় মোট ১০৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে ৩৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি এবং মার্চে ৩৩টি খুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই রাজধানীতে অন্তত ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা
২২ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলায় ভাতিজাকে ছুরিকাঘাত এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিবেশী বকুল বেগম (৫৫) নামে এক নারী খুন হয়েছেন। গত ২০ এপ্রিল নওগাঁয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধারালো ছুরি দিয়ে একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা করেছে নিকটাত্মীয়রা। একই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন।
এছাড়া গত ১৭ এপ্রিল মিরপুরের দারুসসালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। একই দিনে পল্লবীতে ফিরোজা খানম ওরফে জোছনা (৬৮) নামে এক স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়। ফেনীর দাগনভূঞায় ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন।
১৫ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় আসাদুল হক নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ এপ্রিল একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলেক্স ইমন নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রেম-সংক্রান্ত বিষয়ে গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যার পর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাজধানী মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ১৩ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এগুলোই সমাজে অপরাধ কম নাকি বেশি সেটা নির্দেশ করে। তবে সম্প্রতি এসব ঘটনার পরিসংখ্যানে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এসব হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরাধের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মনে ভয়, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।একইসঙ্গে এসব ভিডিও অপরাধ প্রবণতাকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত তিন মাসের আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পারিবারিক, আর্থিক, জমিজমা সংক্রান্ত, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রেমঘটিত এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনা রোধে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের অভিযানও চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কয়েক দফা চালানো হয় অভিযান। তবে এসবের পরেও থামছে না হত্যার ঘটনা।
এদিকে পুলিশকে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারাদেশে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মবসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিন মাসে ৮৫৪ হত্যাকাণ্ড, বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি দেশব্যাপী খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক কলহ, মাদক কারবার, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এসব খুনের ঘটনা বেশি ঘটছে। কোথাও প্রেমঘটিত অথবা পরকীয়ার কারণে হত্যার শিকার হচ্ছে প্রিয়জন, আবার কোথাও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে প্রাণহানি। এসব ঘটনার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সার দেশে ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৭৫০টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ২১৭ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়েছিলেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ৭১০টি খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৩১, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়েছিলেন।
এদিকে রাজধানী ঢাকায়ও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে খুনের ঘটনা। গত তিন মাসে ঢাকায় মোট ১০৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে ৩৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি এবং মার্চে ৩৩টি খুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনেই রাজধানীতে অন্তত ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা
২২ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলায় ভাতিজাকে ছুরিকাঘাত এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিবেশী বকুল বেগম (৫৫) নামে এক নারী খুন হয়েছেন। গত ২০ এপ্রিল নওগাঁয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধারালো ছুরি দিয়ে একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা করেছে নিকটাত্মীয়রা। একই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন।
এছাড়া গত ১৭ এপ্রিল মিরপুরের দারুসসালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। একই দিনে পল্লবীতে ফিরোজা খানম ওরফে জোছনা (৬৮) নামে এক স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়। ফেনীর দাগনভূঞায় ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন।
১৫ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় আসাদুল হক নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ এপ্রিল একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলেক্স ইমন নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রেম-সংক্রান্ত বিষয়ে গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যার পর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাজধানী মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ১৩ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এগুলোই সমাজে অপরাধ কম নাকি বেশি সেটা নির্দেশ করে। তবে সম্প্রতি এসব ঘটনার পরিসংখ্যানে সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এসব হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরাধের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মনে ভয়, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।একইসঙ্গে এসব ভিডিও অপরাধ প্রবণতাকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত তিন মাসের আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পারিবারিক, আর্থিক, জমিজমা সংক্রান্ত, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রেমঘটিত এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনা রোধে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের অভিযানও চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কয়েক দফা চালানো হয় অভিযান। তবে এসবের পরেও থামছে না হত্যার ঘটনা।
এদিকে পুলিশকে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারাদেশে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মবসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।




