ভারী বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ভারী বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ
চরম দুর্ভোগে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

টানা ভারী বৃষ্টিতে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গাদাগাদি করে থাকা হাজার হাজার মানুষের তাঁবু পুরোপুরি তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। ভেসে গেছে বহু আশ্রয়কেন্দ্র।

শনিবার (৭ নভেম্বর) হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, গত ১২ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টিতে অন্তত ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, সিভিল ডিফেন্সের কাছে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০টি জরুরি সহায়তার অনুরোধ জমা পড়েছে। এ দুর্যোগের মধ্যে ৩টি পরিত্যক্ত ভবনও ধসে পড়েছে, যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। গাজা নগরীর একটি তাঁবুশিবিরে গিয়ে দেখা যায়, কেউ তাবু মেরামতে ব্যস্ত, আবার কেউ ভেতরে পানি ঢোকা ঠেকাতে চারদিকে বালু দিচ্ছেন। জলমগ্ন তাঁবু থেকে শীতে কাঁপতে থাকা শিশুদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকেরা।

পৌরসভা ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তীব্র জ্বালানি সংকট এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে তারা এ দুর্যোগ সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছেন। দীর্ঘ এ সামরিক অভিযানে বুলডোজার ও পানি সেচ দেওয়ার গাড়িসহ শত শত যানবাহন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের কারণে গাজার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার সিংহভাগই আজ বাস্তুচ্যুত এবং পুরো ভূখণ্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখানকার অধিকাংশ মানুষই খোলা আকাশের নিচে বা তাঁবুশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।

গাজায় প্রয়োজনীয় আশ্রয় ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হামাস। এদিকে ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয়কারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা সিওজিএটি হামাসের এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিওজিএটি বলেছে, এই ভারী বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজাজুড়ে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি উন্নত করতে নিজেদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে তারা।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/