গাজা পুনর্গঠনে ২.৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের

গাজা পুনর্গঠনে ২.৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের
সিজেডএন ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মাঝে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ গাজা পুনরুদ্ধারের জন্য ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় পরিকল্পনা সামনে এনেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬৬টি ভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ অর্থ খরচ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন নির্মাণ, ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য অপসারণের মতো অতি জরুরি খাতগুলো।
তবে বিশাল এ কর্মযজ্ঞের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তহবিল সংকট। বোর্ড স্বীকার করেছে, গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারে অনেক বেশি অনুদান প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ১৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে হাতে এসেছে মাত্র ২৮০ মিলিয়ন ডলার। বোর্ডের প্রাক্কলন বলছে, আগামী দশকে গাজাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।
বোর্ড অব পিসের বর্ধিত অংশ ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এর সদস্য এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার স্বীকার করেছেন, প্রকল্পটির কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু জটিলতা ও বিলম্ব তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বিলম্ব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের মূল লক্ষ্য ছিল আসলে আপনাদের দেখানো যে, এটি বাস্তবায়নে আমরা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এ সময় তার সঙ্গে থাকা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বিগত এক বছরে তাদের অর্জিত ‘বাস্তব অগ্রগতি’র কথা তুলে ধরেন। উইটকফ বলেন, ‘সব জিম্মি বাড়ি ফিরে গেছে। একটি যুদ্ধবিরতি রয়েছে, সেটি যতই অসম্পূর্ণ হোক না কেন, এটি এখনো কার্যকর আছে। মানবিক প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জন করেছে। জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি কাজকে সমর্থন করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়া ও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।’
অবশ্য আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মধ্যে বোঝাপড়া বা ঐকমত্য তৈরির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘বেশ কয়েকটি দেশ এগিয়ে এসে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে বোর্ড ‘আরও দেশকে এতে অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহী।’
এদিকে বিবিসির ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে বোর্ডের ইসরায়েলি-আমেরিকান সদস্য মাইকেল আইজেনবার্গ জানান, গাজা যেহেতু একটি যুদ্ধক্ষেত্র, তাই সবার আগে সেখানে থাকা অবিস্ফোরিত অস্ত্রগুলো অপসারণ করতে হবে। এর পাশাপাশি মাটির নিচের শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গও ধ্বংস করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘এসব কাজ শেষ হওয়ার পর গাজার মানুষ আবার পুনর্গঠনের কাজে ফিরতে পারবেন। তা হতে পারে আবাসন নির্মাণ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।’
এর আগে আগস্ট মাসে বোর্ড অব পিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলায় ম্লাদেনভ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও হামাসের কর্মকাণ্ড দুটিরই তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে ওই অঞ্চলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকবে না।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩৮১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ এ পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সেনা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এবং অপারেশনাল দুর্ঘটনায় একজন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ দফার যে গাজা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন, তার হাত ধরেই গঠিত হয়েছিল এই ‘বোর্ড অব পিস’। এ চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা বন্দিদের বিনিময়ে হামাস অবশিষ্ট ৪৮ জিম্মিকে মুক্তি দিতে এবং গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে ছাড়তে রাজি হয়েছিল। এমনকি জুলাই মাসে হামাস গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তেও রাজি হয়, তবে শর্ত ছিল ইসরায়েলকে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করে গাজা থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
কিন্তু নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব নাকচ করেন। তিনি জানান, হামাসকে ‘সত্যিকার অর্থে’ নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় অবস্থান করবে। শুরুতে কেবল গাজার শান্তি প্রতিষ্ঠাই এ সংস্থার লক্ষ্য হলেও পরে এর পরিধি বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যান্য সংঘাতকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র:বিবিসি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মাঝে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ গাজা পুনরুদ্ধারের জন্য ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় পরিকল্পনা সামনে এনেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬৬টি ভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ অর্থ খরচ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন নির্মাণ, ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য অপসারণের মতো অতি জরুরি খাতগুলো।
তবে বিশাল এ কর্মযজ্ঞের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তহবিল সংকট। বোর্ড স্বীকার করেছে, গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারে অনেক বেশি অনুদান প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ১৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে হাতে এসেছে মাত্র ২৮০ মিলিয়ন ডলার। বোর্ডের প্রাক্কলন বলছে, আগামী দশকে গাজাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।
বোর্ড অব পিসের বর্ধিত অংশ ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এর সদস্য এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার স্বীকার করেছেন, প্রকল্পটির কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু জটিলতা ও বিলম্ব তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বিলম্ব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের মূল লক্ষ্য ছিল আসলে আপনাদের দেখানো যে, এটি বাস্তবায়নে আমরা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এ সময় তার সঙ্গে থাকা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বিগত এক বছরে তাদের অর্জিত ‘বাস্তব অগ্রগতি’র কথা তুলে ধরেন। উইটকফ বলেন, ‘সব জিম্মি বাড়ি ফিরে গেছে। একটি যুদ্ধবিরতি রয়েছে, সেটি যতই অসম্পূর্ণ হোক না কেন, এটি এখনো কার্যকর আছে। মানবিক প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জন করেছে। জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি কাজকে সমর্থন করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়া ও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।’
অবশ্য আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মধ্যে বোঝাপড়া বা ঐকমত্য তৈরির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘বেশ কয়েকটি দেশ এগিয়ে এসে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে বোর্ড ‘আরও দেশকে এতে অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহী।’
এদিকে বিবিসির ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে বোর্ডের ইসরায়েলি-আমেরিকান সদস্য মাইকেল আইজেনবার্গ জানান, গাজা যেহেতু একটি যুদ্ধক্ষেত্র, তাই সবার আগে সেখানে থাকা অবিস্ফোরিত অস্ত্রগুলো অপসারণ করতে হবে। এর পাশাপাশি মাটির নিচের শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গও ধ্বংস করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘এসব কাজ শেষ হওয়ার পর গাজার মানুষ আবার পুনর্গঠনের কাজে ফিরতে পারবেন। তা হতে পারে আবাসন নির্মাণ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।’
এর আগে আগস্ট মাসে বোর্ড অব পিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলায় ম্লাদেনভ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও হামাসের কর্মকাণ্ড দুটিরই তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে ওই অঞ্চলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকবে না।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩৮১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ এ পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সেনা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এবং অপারেশনাল দুর্ঘটনায় একজন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ দফার যে গাজা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন, তার হাত ধরেই গঠিত হয়েছিল এই ‘বোর্ড অব পিস’। এ চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা বন্দিদের বিনিময়ে হামাস অবশিষ্ট ৪৮ জিম্মিকে মুক্তি দিতে এবং গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে ছাড়তে রাজি হয়েছিল। এমনকি জুলাই মাসে হামাস গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তেও রাজি হয়, তবে শর্ত ছিল ইসরায়েলকে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করে গাজা থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
কিন্তু নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব নাকচ করেন। তিনি জানান, হামাসকে ‘সত্যিকার অর্থে’ নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় অবস্থান করবে। শুরুতে কেবল গাজার শান্তি প্রতিষ্ঠাই এ সংস্থার লক্ষ্য হলেও পরে এর পরিধি বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যান্য সংঘাতকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র:বিবিসি

গাজা পুনর্গঠনে ২.৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের
সিজেডএন ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মাঝে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ গাজা পুনরুদ্ধারের জন্য ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় পরিকল্পনা সামনে এনেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬৬টি ভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ অর্থ খরচ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন নির্মাণ, ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য অপসারণের মতো অতি জরুরি খাতগুলো।
তবে বিশাল এ কর্মযজ্ঞের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তহবিল সংকট। বোর্ড স্বীকার করেছে, গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারে অনেক বেশি অনুদান প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ১৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে হাতে এসেছে মাত্র ২৮০ মিলিয়ন ডলার। বোর্ডের প্রাক্কলন বলছে, আগামী দশকে গাজাকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।
বোর্ড অব পিসের বর্ধিত অংশ ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’-এর সদস্য এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার স্বীকার করেছেন, প্রকল্পটির কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু জটিলতা ও বিলম্ব তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বিলম্ব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের মূল লক্ষ্য ছিল আসলে আপনাদের দেখানো যে, এটি বাস্তবায়নে আমরা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এ সময় তার সঙ্গে থাকা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বিগত এক বছরে তাদের অর্জিত ‘বাস্তব অগ্রগতি’র কথা তুলে ধরেন। উইটকফ বলেন, ‘সব জিম্মি বাড়ি ফিরে গেছে। একটি যুদ্ধবিরতি রয়েছে, সেটি যতই অসম্পূর্ণ হোক না কেন, এটি এখনো কার্যকর আছে। মানবিক প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জন করেছে। জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি কাজকে সমর্থন করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়া ও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।’
অবশ্য আর্থিক সংকটের পাশাপাশি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মধ্যে বোঝাপড়া বা ঐকমত্য তৈরির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘বেশ কয়েকটি দেশ এগিয়ে এসে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে বোর্ড ‘আরও দেশকে এতে অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহী।’
এদিকে বিবিসির ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে বোর্ডের ইসরায়েলি-আমেরিকান সদস্য মাইকেল আইজেনবার্গ জানান, গাজা যেহেতু একটি যুদ্ধক্ষেত্র, তাই সবার আগে সেখানে থাকা অবিস্ফোরিত অস্ত্রগুলো অপসারণ করতে হবে। এর পাশাপাশি মাটির নিচের শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গও ধ্বংস করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘এসব কাজ শেষ হওয়ার পর গাজার মানুষ আবার পুনর্গঠনের কাজে ফিরতে পারবেন। তা হতে পারে আবাসন নির্মাণ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।’
এর আগে আগস্ট মাসে বোর্ড অব পিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলায় ম্লাদেনভ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও হামাসের কর্মকাণ্ড দুটিরই তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে ওই অঞ্চলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকবে না।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩৮১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ এ পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সেনা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এবং অপারেশনাল দুর্ঘটনায় একজন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ দফার যে গাজা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন, তার হাত ধরেই গঠিত হয়েছিল এই ‘বোর্ড অব পিস’। এ চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা বন্দিদের বিনিময়ে হামাস অবশিষ্ট ৪৮ জিম্মিকে মুক্তি দিতে এবং গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে ছাড়তে রাজি হয়েছিল। এমনকি জুলাই মাসে হামাস গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তেও রাজি হয়, তবে শর্ত ছিল ইসরায়েলকে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করে গাজা থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
কিন্তু নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব নাকচ করেন। তিনি জানান, হামাসকে ‘সত্যিকার অর্থে’ নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় অবস্থান করবে। শুরুতে কেবল গাজার শান্তি প্রতিষ্ঠাই এ সংস্থার লক্ষ্য হলেও পরে এর পরিধি বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যান্য সংঘাতকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র:বিবিসি

গাজা ইস্যুতে জাতিসংঘে কোণঠাসা ইসরায়েল
গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রস্তুত হামাস 







