শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটে আটকা ট্রাম্প, বের হওয়ার উপায় কী

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটে আটকা ট্রাম্প, বের হওয়ার উপায় কী
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি আর সামরিক তৎপরতার পরও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন এখন উভয়সংকটে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ রাস্তা আমেরিকার সামনে খোলা নেই। একদিকে স্থলযুদ্ধে নেমে শত শত মার্কিন সেনার জীবন ঝুঁকিতে ফেলা, আর অন্যদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া- দুটি বিকল্পই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমান অম্লমধুর ও অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ সংঘাতের প্রভাব কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বজুড়ে তেলের দামবৃদ্ধি এবং এর ফলে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাপ বাড়াচ্ছে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তীব্র ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের যে দেশগুলো পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানেও যুদ্ধের কালো ছায়া পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এ যুদ্ধ বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান নীতি ও জ্বালানি তেলের দাম সামলানোর বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর মার্কিন জনগণের আস্থা ৩০ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে এ নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটে আটকা ট্রাম্প, বের হওয়ার উপায় কী (1)
হরমুজ প্রণালি

তবে এই চরম অচলাবস্থার মধ্যেও কিছু কূটনৈতিক দরকষাকষির আভাস মিলছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, সেখানে একটি বাণিজ্যিক আপসের পথ খোঁজা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী কিংবা নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরের অনুসরণে পারস্য উপসাগরের জলপথটি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর একটি ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গঠিত একটি যৌথ আঞ্চলিক সংস্থা বছরে কোটি কোটি ডলার আয় করতে পারে। এই মডেল কার্যকর হলে ইরান যেমন বিশ্বকে দেখাতে পারবে যে তারা পরাজিত হয়নি, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সামরিক মুখরক্ষা করে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারবে।

তবে এ কূটনীতি সফল করতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি এ স্থবিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতির কারণে মিত্রদেশগুলো সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরানও আমেরিকার সঙ্গে কোনো স্থায়ী সমঝোতায় যাওয়ার আগে নিশ্চিত হতে চায় যে ওয়াশিংটন তাদের নিজস্ব কৌশল পরিবর্তন করেছে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই একক জয় না পেলেও, আরও বড় বিপর্যয় এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে হয়তো একটি কঠিন ও বেদনাদায়ক আপসের পথেই হাঁটতে হবে।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/