ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত ‘খুব শীঘ্রই’ শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট এতে জয়ী হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নতুন মোড় নিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রধান সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর প্রায় সব ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নতুন করে হামলা চালানোর মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।

জানা গেছে, কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষই আলাদাভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জানিয়েছে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে হবে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কোর (IRGC) মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি ২৬ পৃষ্ঠার দীর্ঘ খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। চিঠিতে ট্রাম্পকে বড় মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটি দাবি করেছে, যুদ্ধ বাঁধাতে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যকে মার্কিন নাগরিকদের কাছে গোপন করছেন।

ইরান মার্কিন ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছে তারা যেন ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের মিত্রদের ভোটে পরাজিত করে এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে ইরান নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সরাসরি মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল।

সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলার এর ডেটা অনুসারে, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৩২ লাখ (১৩.২ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে। এটি যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৭৭ শতাংশ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ও মার্কিন নৌবাহিনী মিত্র দেশগুলোর তেলের ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে এ জলপথ পার করে দিচ্ছে এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও বজায় রেখেছে। জেপি মরগ্যানের মতে, তেল পরিবহন বাড়ার অর্থ এটা নয় যে জলপথটি নিরাপদ হয়ে গেছে। বরং এর অর্থ হলো তেলের বাজারে ঝুঁকি নিয়েই বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে গোল্ডম্যান স্যাক্স বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি প্রায় যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/অজয়/