ইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের, এরপর কী

ইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের, এরপর কী
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরানের প্রস্তাবে কি ছিল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করা। পাশাপাশি লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে ৭ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে।
আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ শর্ত বাস্তবায়ন করলে প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল প্রস্তাবে।
আরাঘচি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনও ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেয় না।’
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পরিকল্পনাটি নাকচ করে দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল শর্তগুলো মানবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবির মধ্যে প্রধান দুটি বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে তেহরান বলছে, আগে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জায়গায় আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করে সেটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করেছেন। এর আগে তিনি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। ইরান অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শান্তি আলোচনা কি চলছে
কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই বলেছে যে কূটনীতির দরজা খোলা রয়েছে এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে চলমান মধ্যস্থতায় আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’।
এ সংঘাতের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং পুনরায় সংলাপের শুরু নিয়ে কথা বলেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে, বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফসহ মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে তাদের ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেন। বৈঠকটিকে ট্রাম্প ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো টমাস ওয়ারিকের মতে, দুই দেশ একই অবস্থানে আছে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবটি আলোচনার পথ খুলে দেবে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন কী ধরনের পূর্বশর্তে কাজ করতে ইচ্ছুক, তা স্পষ্ট হবে।
এ অচলাবস্থা কোন দিকে মোড় নেবে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অচলাবস্থা সম্ভবত নতুন সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প মিত্রদের বলেছেন, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া এবং দেশটিকে ‘নরকে ঠেলে দেওয়ার’ কথা বলেছিলেন।
তবে ট্রাম্প আরও বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ‘প্রতিকূল শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চান না’। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলও তার পরবর্তী নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
মাসগ্রেভের মতে, নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে এবং কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প ‘একতরফা পদক্ষেপ’, এমনকি আবার যুদ্ধ শুরু করার পথও বেছে নিতে পারেন।
হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েন এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অচলাবস্থার কেন্দ্রে এখন হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনও অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান একদিকে সাত দিনের মধ্যে নৌপথটি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণে তাড়াহুড়ো করছে না। একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের শর্ত, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরানের প্রস্তাবে কি ছিল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করা। পাশাপাশি লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে ৭ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে।
আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ শর্ত বাস্তবায়ন করলে প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল প্রস্তাবে।
আরাঘচি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনও ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেয় না।’
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পরিকল্পনাটি নাকচ করে দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল শর্তগুলো মানবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবির মধ্যে প্রধান দুটি বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে তেহরান বলছে, আগে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জায়গায় আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করে সেটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করেছেন। এর আগে তিনি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। ইরান অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শান্তি আলোচনা কি চলছে
কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই বলেছে যে কূটনীতির দরজা খোলা রয়েছে এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে চলমান মধ্যস্থতায় আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’।
এ সংঘাতের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং পুনরায় সংলাপের শুরু নিয়ে কথা বলেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে, বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফসহ মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে তাদের ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেন। বৈঠকটিকে ট্রাম্প ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো টমাস ওয়ারিকের মতে, দুই দেশ একই অবস্থানে আছে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবটি আলোচনার পথ খুলে দেবে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন কী ধরনের পূর্বশর্তে কাজ করতে ইচ্ছুক, তা স্পষ্ট হবে।
এ অচলাবস্থা কোন দিকে মোড় নেবে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অচলাবস্থা সম্ভবত নতুন সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প মিত্রদের বলেছেন, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া এবং দেশটিকে ‘নরকে ঠেলে দেওয়ার’ কথা বলেছিলেন।
তবে ট্রাম্প আরও বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ‘প্রতিকূল শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চান না’। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলও তার পরবর্তী নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
মাসগ্রেভের মতে, নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে এবং কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প ‘একতরফা পদক্ষেপ’, এমনকি আবার যুদ্ধ শুরু করার পথও বেছে নিতে পারেন।
হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েন এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অচলাবস্থার কেন্দ্রে এখন হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনও অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান একদিকে সাত দিনের মধ্যে নৌপথটি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণে তাড়াহুড়ো করছে না। একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের শর্ত, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার প্রস্তাব নাকচ ট্রাম্পের, এরপর কী
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরানের প্রস্তাবে কি ছিল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করা। পাশাপাশি লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে ৭ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে।
আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ শর্ত বাস্তবায়ন করলে প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল প্রস্তাবে।
আরাঘচি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনও ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেয় না।’
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পরিকল্পনাটি নাকচ করে দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল শর্তগুলো মানবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবির মধ্যে প্রধান দুটি বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে তেহরান বলছে, আগে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জায়গায় আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করে সেটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করেছেন। এর আগে তিনি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। ইরান অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শান্তি আলোচনা কি চলছে
কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই বলেছে যে কূটনীতির দরজা খোলা রয়েছে এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে চলমান মধ্যস্থতায় আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’।
এ সংঘাতের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং পুনরায় সংলাপের শুরু নিয়ে কথা বলেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে, বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফসহ মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে তাদের ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেন। বৈঠকটিকে ট্রাম্প ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো টমাস ওয়ারিকের মতে, দুই দেশ একই অবস্থানে আছে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবটি আলোচনার পথ খুলে দেবে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন কী ধরনের পূর্বশর্তে কাজ করতে ইচ্ছুক, তা স্পষ্ট হবে।
এ অচলাবস্থা কোন দিকে মোড় নেবে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অচলাবস্থা সম্ভবত নতুন সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প মিত্রদের বলেছেন, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া এবং দেশটিকে ‘নরকে ঠেলে দেওয়ার’ কথা বলেছিলেন।
তবে ট্রাম্প আরও বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ‘প্রতিকূল শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চান না’। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলও তার পরবর্তী নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
মাসগ্রেভের মতে, নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে এবং কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প ‘একতরফা পদক্ষেপ’, এমনকি আবার যুদ্ধ শুরু করার পথও বেছে নিতে পারেন।
হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েন এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অচলাবস্থার কেন্দ্রে এখন হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনও অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান একদিকে সাত দিনের মধ্যে নৌপথটি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণে তাড়াহুড়ো করছে না। একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের শর্ত, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের







