পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে মোদি সরকারের পতন হবে: দীপকে

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে মোদি সরকারের পতন হবে: দীপকে
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পতন হতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সভায় এমনটাই বলেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গণভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই সাধারণ মানুষকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পিটিআই-এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। কোচির রাজেন্দ্র ময়দানে ‘জন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে একটি অবাধ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানান সিজেপি প্রধান। দীপকে বলেন, ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মোদি অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়বেন। তবে সরকার পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমেই। সেই সঙ্গে তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন। বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে দীপকে বলেন, কেন্দ্রের কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন? তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের তরুণদের বিরুদ্ধে একধরনের যুদ্ধ চালাচ্ছে।

দিল্লির জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি নিজে এবং দলের দুই সহ-নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেন। দীপকে বলেন, তাকে যেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, তিনি আবার ফিরে আসবেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। এনডিএ সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করছে। সরকার প্রথমে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিবাহ ও ভালোবাসার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। এখন ভোটাধিকারও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর)-কে নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার হাতিয়ার বলে দাবি করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা জানান, মূলত নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতেই এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তার তোলা এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদ দেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর দেশের তরুণসমাজ অবশেষে নিজেদের নাগরিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে শুরু করেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ এনে দিপকে প্রতিবাদী তরুণদের নৈরাজ্যবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার নিন্দা জানান। দীপকে জোর দিয়ে বলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমেই পতন ঘটবে মোদি সরকারের। যদিও এটি একেবারেই তার নিজস্ব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস, প্রকৃত ফলাফল নির্ধারিত হবে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

/এমএকে/