শিরোনাম

আসামে বন্যায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৬১

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
আসামে বন্যায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৬১
আসামে বন্যায় উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে কর্মীরা

ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। সংকটপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে হাত বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী। দুর্যোগের সার্বিক অবস্থা জানতে শনিবার (২৫ জুলাই) আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ফোনালাপে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রাজ্যের ২ হাজারের বেশি গ্রামের প্রায় ১১ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বর্তমানে ১৬২টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৪১ হাজারের বেশি বন্যাকবলিত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ও রাজ্যবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নতুন করে চরাইদেও জেলায় ৭ জন, শিবসাগরে ৬ জন এবং জোরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে একক জেলা হিসেবে শিবসাগরেই মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে, এবং এখনও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যেও শীর্ষে রয়েছে শিবসাগর। সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী। এছাড়া চরাইদেওতে ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং জোরহাটে ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ৪৮ ঘণ্টায় আসাম ও তার আশপাশের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্রধান নদীগুলোর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তা সত্ত্বেও গোলাঘাট, ডিব্রুগড়, নগাঁও, কামরূপসহ মোট ১২টি জেলা এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। দুর্গতদের জরুরি সহায়তা দিতে রাজ্য সরকার ১১১১ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার কুইন্টাল চাল, ডাল ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং মানুষ ও গবাদিপশুর দ্রুত চিকিৎসায় কাজ করছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ দল।

এদিকে উত্তর আসামের পাশাপাশি রাজধানী শহর গুয়াহাটিও মারাত্মক জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। শহরের ১০টি ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থবিরতা কাটাতে আসামের নগর উন্নয়নমন্ত্রী কৌশিক রায় ড্রেন পরিষ্কার ও পলি অপসারণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে গুয়াহাটির ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

/এমএকে/