বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বাংলাদেশে এই চলমান অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একইসঙ্গে সীমান্ত অতিক্রমকারী নদীর পানি বণ্টন ইস্যু ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সফরের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকায় সাম্প্রতিক পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জয়সওয়াল বাংলাদেশের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিন বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে এবং আমরা সেসব ঘটনার দিকে নজর রাখছি।’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই বলেও জানান তিনি।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘যৌথ নদীগুলোর যেকোনো আলোচনা নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সামনে এগোবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আগেও যেমন বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ সমস্ত সীমান্ত অতিক্রমকারী নদী নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই আনুষ্ঠানিক কাঠামো।’

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে রণধীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া পূর্ববর্তী আমন্ত্রণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে আমি আপনাদের পরবর্তীতে জানিয়ে দেব।’

তার এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। তারা ন্যূনতম মজুরি ১২৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। চলমান আন্দোলনে মিরপুর, আশুলিয়া, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: এএনআই

/জেএইচ/