পর্তুগালে বাড়ি ভাড়া কমানোর দাবিতে আবারও বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
পর্তুগালে বাড়ি ভাড়া কমানোর দাবিতে আবারও বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ
পর্তুগালের লিসবনের রোসিও স্কোয়ারে আবাসন সংকট, আকাশছোঁয়া ভাড়া এবং কম মজুরির প্রতিবাদে মানুষের বিক্ষোভ। ছবি: আল জাজিরা

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন সংকট নিয়ে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর আবারও চড়াও হয়েছে পুলিশ। এক সপ্তাহ আগে একই ধরণের অভিযানের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল পর্তুগাল পুলিশ। সেই সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করেই এবার লিসবনের রসিও স্কোয়ারে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেওয়া আবাসন বিক্ষোভকারীদের হটাতে ঢাল ও লাঠি ব্যবহার করেছে তারা।

রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা রসিও স্কোয়ারে প্রবেশ করেন। সরকারের নতুন আবাসন বিল প্রত্যাহারের দাবিতে আগের দিনই রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের মতে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের আবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে। শনিবারের (৩১ অক্টোবর) মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা রসিও স্কোয়ারে ৫০টিরও বেশি তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেন। তবে পুলিশ কমান্ডার ইউরি রদ্রিগেজ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁবুগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য সতর্ক বার্তা দেন। তিনি জানান, স্কোয়ারে তাঁবু খাটানো বেআইনি এবং এগুলো সরাতে বাধা দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে।

এরপরই সেখানে অবস্থান নেওয়া শত শত বিক্ষোভকারীকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। লিসবনের পাশাপাশি পোর্তোর ডোম জোয়াও ১ স্কোয়ারে গড়ে তোলা আরও একটি ছোট তাঁবুও একই সময়ে ভেঙে দেয় পুলিশ।

এ ঘটনার আগেই অবশ্য দেশটির আইনপ্রণেতা পেদ্রো দেলগাদো আলভেস বলেছিলেন, রোসিও স্কোয়ারের পরিস্থিতি একেবারেই শান্তিপূর্ণ ছিল। তার মতে, বলপ্রয়োগ, শারীরিক সহিংসতা বা লাঠিচার্জের মতো পুলিশি হস্তক্ষেপের কোনো যৌক্তিকতা ছিল না, যেমনটা আমরা গত সপ্তাহে দেখেছি।

গত রবিবারও চত্বরগুলোতে অভিযান চালিয়ে লিসবন থেকে ২৫ জন এবং পোর্তো থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আন্দোলনকারী সংগঠন ‘কাসা পারা ভিভের’ দাবি অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের অভিযানে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছিলেন। যদিও পুলিশ সেই পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছিল।

বর্তমানে ইউরোপের যেসব দেশ মারাত্মক আবাসন সংকটে ভুগছে, পর্তুগাল তার মধ্যে অন্যতম। দেশের তরুণ সমাজ এ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০১৭ সালের পর থেকে পর্তুগালে বাড়ির দাম দ্বিগুণের চেয়েও বেশি বেড়েছে, আর নতুন চুক্তিতে ভাড়াও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ব্যাংক অফ পর্তুগালের হিসাব বলছে, দেশজুড়ে বর্তমানে ৩ লাখের মতো আবাসন ঘাটতি রয়েছে, যা লিসবন শহরের মোট আবাসন ব্যবস্থার সমান।

এ সংকটের মধ্যেই পর্তুগালের সংখ্যালঘু মধ্য-ডানপন্থী সরকার একটি নতুন আইন করার পরিকল্পনা করছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ আইন বাস্তবায়িত হলে বাড়িওয়ালাদের জন্য ভাড়াটে উচ্ছেদ সহজ হয়ে যাবে এবং নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমার নিয়মটি উঠে যাবে। আন্দোলনকারীদের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি ভাড়া নেওয়া আরও কষ্টকর হবে এবং ভাড়াটেরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। লিসবনের এ প্রতিবাদ মূলত ইউরোপ জুড়ে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটেরই এক বড় প্রতিফলন। স্পেনেও একই দাবিতে বিক্ষোভ চলছে, আর ফ্রান্স, জার্মানি ও আলবেনিয়ায় চলছে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদ।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/