
সিটিজেন ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর চার শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটির হতাহতের হিসাব সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২ মার্চ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাতের সূচনা করে হিজবুল্লাহ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে হত্যার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।
রয়টার্সের সূত্রগুলো জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের সম্প্রসারিত আকাশ হামলা ও স্থল অভিযানে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর চার শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যদিও এর আগে সংগঠনটি আলাদাভাবে কিছু যোদ্ধার মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল, কিন্তু মোট হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
২০২৩-২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে হিজবুল্লাহ প্রতিদিন হতাহতের তথ্য প্রকাশ করত। ওই যুদ্ধে গোষ্ঠীটির প্রায় ৫ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছিল।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, লেবাননে সাম্প্রতিক চার সপ্তাহের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর অন্তত ৭০০ সদস্য নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে এলিট রাদওয়ান বাহিনীর কয়েকশ সদস্যও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২৭ মার্চ) জানায়, ইসরায়েলের আকাশ ও স্থল হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২২ শিশু, ৮৩ নারী এবং ৪২ জন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে একইদিন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতে লেবাননে অভিযানের সময় তাদের এক সেনা ও এক কমব্যাট কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাতে তাদের চার সেনা নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে তেল আবিব।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে টানা চার সপ্তাহ ধরে কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে ইরান। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস এই পরিস্থিতিকে ‘ডিজিটাল অন্ধকার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাস ধরে চলা এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ইরানি নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের মৌলিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নেটব্লকস জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহ ধরে ইরানের সাধারণ মানুষ কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তবে এটি চলতি বছরে দেশটিতে প্রথম ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার ঘটনা নয়।

এর আগে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানে দ্বি-স্তরীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর প্রথম স্তরে সরকার–সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীনদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তরে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটির নিজস্ব ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ ব্যবহার করছেন, যা একটি নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক।
এই পরিস্থিতি ইরানে তথ্যপ্রবাহ ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

রাশিয়ার উন্নত শাহেদ ড্রোন ইরানে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হোয়াইট হাউস বলেছে, এতে তাদের চলমান অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, অন্য কোনো দেশ ইরানকে যা-ই সরবরাহ করুক না কেন, তা আমাদের অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া।
মূলত ইরানের তৈরি এই ড্রোনই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করে আসছিল মস্কো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এতে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ইউরোপীয় সূত্রের ধারণা, আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার আড়ালে ট্রাকে করে এসব ড্রোন পরিবহন করা হচ্ছে। তবে চালানটির পরিমাণ বা সরবরাহের ধরন এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার উন্নত এই ড্রোন ইরানের হাতে পৌঁছালে অঞ্চলটিতে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এপি

ইরানের ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ‘আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুই নেতার মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী এক ফোনালাপে এই বিষয়টি উঠে আসে। পিএমওর বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য শাহবাজ শরিফের ভূয়সী প্রশংসা করেন পেজেশকিয়ান।
ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করে আলোচনার পথ সুগম করতে ‘আস্থা তৈরি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করতে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি।’ একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তান তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
সূত্র: ডন