শিরোনাম

তীব্র হচ্ছে এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
তীব্র হচ্ছে এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
এল নিনো আরও তীব্র হচ্ছে

গরমে হাঁসফাঁস করছে বিশ্ব, তার ওপর নতুন করে শঙ্কা বাড়াচ্ছে প্রকৃতির এক বিষাক্ত রূপ। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট জলবায়ুগত পরিবর্তন ‘এল নিনো’ শুরুর দিকেই শক্তির দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ ও আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়টি পুড়তে থাকা পৃথিবীকে আরও ভয়াবহ দুর্যোগের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, এল নিনোর তীব্রতা মাপার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের যে অঞ্চলটি পর্যবেক্ষণ করা হয়, সেটি সৃষ্টির মাত্র ১৫ সপ্তাহের মাথায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই এল নিনো তার চরম মাত্রায় পৌঁছাতে আরও কয়েক মাস সময় নেবে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সালের বসন্তকাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে আগামী বছর জুড়েই বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, ভয়াবহ খরা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তীব্র হচ্ছে এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা (1)
রোমানিয়ায় দীর্ঘ খরার পর দানিউব নদীর জলস্তর নিচে নেমে গেছে। ছবি: এপি

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এল নিনো এখন আর ঘরের দোরগোড়ায় নেই, একেবারে ভেতরে ঢুকে উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা গরম আর ভয়াবহ দাবানলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি দেখেছি। তবে এটি ছিল কেবল শুরু। আমরা এখন এক অজানা ও বিপজ্জনক পথের ওপর দাঁড়িয়ে আছি।

বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ তাপ সমুদ্রে জমা হয়, এল নিনোর সময় সমুদ্র সেই তাপ বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়। এর ফলে এশিয়া মহাদেশের ভারত ও ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ ও পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা দিতে পারে তীব্র খরা ও দাবানল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ ইউরোপের মতো অঞ্চলগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এল নিনোর মারাত্মক সংমিশ্রণ সম্পর্কে বিশ্ববাসী এখনও যথেষ্ট সচেতন নয়। একদিকে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য ও সুদানের মতো অঞ্চলের যুদ্ধবিগ্রহ, আর অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের অপপ্রচার জলবায়ুর আসল সংকটকে আড়াল করে রাখছে। ভয়াবহ উত্তাপের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের নারী শ্রমিকরা কাজের জায়গায় তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বেন। সময় থাকতে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমানো না গেলে মানবজাতিকে আরও এক কঠিন ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সূত্র: এপি

/এমএকে/